জেলে পাঠিয়েও আটকানো যাবে না, নন্দীগ্রামে হুঙ্কার শুভঙ্করের!
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 202612:45 pm
নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের হঠাৎ গ্রেফতারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। তবে কোনো অবস্থাতেই কংগ্রেস যে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী লড়াই থেকে পিছিয়ে আসবে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে শুভঙ্কর সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আদালত যদি আমাদের প্রার্থীকে জেল হেফাজতে পাঠায়, তবুও আমরা দমে যাব না। নন্দীগ্রামের মাঠে নেমে ‘হাজার হাজার মিলন প্রধান’ প্রচার চালাবেন, লিফলেট বিলি করবেন।”
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে নন্দীগ্রামের সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। একদিকে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ও দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত টানাপোড়েন, অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের বার্তা—এই সবকিছুর আবহেই আচমকা ১৯ বছরের পুরোনো এক মামলায় গ্রেফতার হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের এক খুনের মামলায় পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যায়।
প্রার্থীর গ্রেফতারির এই ধরন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। শুভঙ্করের অভিযোগ, “আমাদের প্রার্থীর চোখে কাপড় বেঁধে নানা জায়গায় ঘুরিয়ে প্রার্থীপদ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষক শুভাশিস ভট্টাচার্য প্রার্থীর খোঁজ নিতে গেলে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়।” আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২০০৭ সালের ঘটনা টেনে শুভঙ্কর প্রশ্ন তোলেন, “নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের সময়ে তো শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অনেকেই ছিলেন। তা সত্ত্বেও একা মিলন প্রধানকে কেন বলির পাঁঠা করা হচ্ছে?” প্রার্থীর আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই যে কংগ্রেস রাজপথেই লড়বে, তা শুভঙ্করের এই কড়া বার্তা থেকেই স্পষ্ট।