শাড়ির আড়ালে অনুপ্রবেশকারী! পুরুলিয়ায় ‘বৃহন্নলা’র ছদ্মবেশে ৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 20261:08 pm
পুরুলিয়া: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ, আর তারপর ধরা পড়ার এড়াতে বেছে নেওয়া অভিনব ছদ্মবেশ! শাড়ি পরা ও লম্বা চুলের আড়ালে পুরুষ পরিচয় লুকিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছিল ৪ অবৈধ বাংলাদেশি। পুরুলিয়া শহর ও রঘুনাথপুর এলাকা থেকে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে জোর শোরগোল।
কীভাবে সামনে এল সত্য? ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ সেপ্টেম্বর। রঘুনাথপুরের শালকা হাসপাতালের কাছ থেকে শাড়ি পরা এক সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম মহম্মদ তৌহিদ মণ্ডল, বাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলায়। তাঁকে জেরা করেই রাতে পুরুলিয়া শহরের কসাইমহল্লার একটি গেস্ট হাউস থেকে আরও তিনজনকে ধরা হয়। প্রত্যেকেই তখন শাড়ি পরিহিত অবস্থায় ছিলেন।
পুলিশ জানতে পেরেছে, এরা সকালে বৃহন্নলা সেজে শহরে ঘুরে টাকা তুলত। বাঁকুড়ার ধলডাঙাতেও এদের একটি গোপন আস্তানা রয়েছে বলে খবর।
পুলিশ বনাম হোটেল মালিক: মিলছে না হিসাব! তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর বৈপরীত্য:
- পুলিশের দাবি: ধৃতরা ১ সেপ্টেম্বর নদিয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।
- হোটেল মালিকের দাবি: উত্তর ২৪ পরগনার এক ব্যক্তি প্রায় ৩ মাস আগে ওই ঘর ভাড়া নেন এবং ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে যাতায়াত করছিলেন।
একই সঙ্গে উঠেছে ‘বৃহন্নলা তত্ত্ব’—তবে কি পরিচয় আড়াল করতে বৃহন্নলাদের আড়ালকেই হাতিয়ার করছে অনুপ্রবেশকারীরা?
রাজনীতি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “বহু পুরুষ বৃহন্নলা সেজে বাংলাদেশে থেকে ঢুকে অপরাধমূলক কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী ও ডিজিপি-কে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে দেশ থেকে বের করা উচিত।”
বর্তমানে ধৃত চারজনকেই রঘুনাথপুরের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।