রুশ তেল কিনলে ভারতের ওপর ১০০% শুল্ক, ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 20265:35 pm
নয়াদিল্লি: রাশিয়া থেকে তেল কেনার মাশুল গুনতে হতে পারে ভারত-সহ একাধিক দেশকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া বিলটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হলো। এই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে—যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কিনবে, তাদের পণ্যের উপর আমেরিকা সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারবে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ভারতের পাশাপাশি চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, হাঙ্গেরির মতো দেশগুলিও তীব্র চাপে পড়তে পারে।
আইনে কী কী রয়েছে? ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামানো এবং রাশিয়ার অর্থনীতিকে কোণঠাসা করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য। এতে বলা হয়েছে:
- রাশিয়ার নিজস্ব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০% পর্যন্ত শুল্ক বসানো যাবে।
- ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর সরকারের শীর্ষ আধিকারিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরও কড়া করা হবে।
- রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা মিত্র দেশগুলির পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর নির্দেশ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছিল বিলটি।
ভারতে কতটা প্রভাব পড়তে পারে? বর্তমানে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হয়। যদি ট্রাম্প তাঁর এই বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করেন, তবে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হবে। এতে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতীয় রপ্তানি বাণিজ্য ও অর্থনীতি।
আইনে সই মানেই কি ১০০% শুল্ক? বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প সই করেছেন মানেই যে কাল থেকে ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়ে গেল, তা নয়। এই আইন ট্রাম্পকে কেবল সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার বা ক্ষমতা দিল। সার্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট যেকোনো দেশকে এতে ছাড়ও দিতে পারেন।
ভারতের কড়া জবাব: মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপের দিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। তবে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে—ওয়াশিংটনের কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না ভারত। দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা হবে।