AI ও নতুন কর্মসংস্থান নিয়ে টাটা চেয়ারম্যানের বড় ঘোষণা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 19, 20266:58 pm
ভারত এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে—এমনটাই বিশ্বাস টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনের। সম্প্রতি সাই ইউনিভার্সিটির (Sai University) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আগামী দিনে দেশীয় তথা বিশ্ব অর্থনীতি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে চলেছে।
AI কাড়বে না, তৈরি করবে অচেনা সব কর্মসংস্থান বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে এক আশার আলো দেখিয়েছেন টাটা প্রধান। চন্দ্রশেখরনের মতে, “আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর পর এমন বহু নতুন শিল্পের জন্ম হবে, যা আজ আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।” তিনি স্পষ্ট জানান, এআই কেবল পুরোনো ব্যবস্থা বদলাচ্ছে না, বরং অসীম সম্ভাবনার নতুন দরজাও খুলে দিচ্ছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকা ভারত আগামী কয়েক দশক জুড়ে এই বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখবে।
সাফল্যের চাবিকাঠি: ‘ম্যারাথন মাইন্ডসেট’ তরুণ পেশাদার ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে চন্দ্রশেখরন দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি বা ‘ম্যারাথন মাইন্ডসেট’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ক্যারিয়ারে সফল হতে রাতারাতি অলৌকিক কিছু আশা না করে, ছোট ছোট অর্জনগুলোকে উদযাপন করে ধীরস্থিরভাবে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বিখ্যাত ম্যারাথন রানার জুমা ইকাঙ্গার একটি উক্তি স্মরণ করিয়ে দেন— “প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছা না থাকলে জেতার ইচ্ছার কোনো মূল্য থাকে না।” অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে প্রতিদিন নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে টাটা প্রধানের ৬ মন্ত্র দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে শিক্ষার্থীদের ৬টি মূল গুণাবলী অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন এন চন্দ্রশেখরন:
- আজীবন শেখার মানসিকতা: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হলেও শেখার প্রক্রিয়া যেন কখনো থমকে না যায়।
- অদম্য কৌতূহল: নতুন বিষয় জানার ও প্রতিনিয়ত অনুসন্ধান করার আগ্রহ বজায় রাখা।
- দলগত কাজ (Collaboration): ভিন্ন দক্ষতার মানুষদের সাথে সমন্বয় রেখে একসাথে কাজ করা।
- সৃজনশীলতা: বিশেষ করে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন ও ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটানো।
- আত্মবিশ্লেষণ: নিজের কাজ ও দক্ষতার নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া।
- বড় লক্ষ্য নির্ধারণ: ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ও দুঃসাহসিক স্বপ্ন দেখার সাহস রাখা।
প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তন ও এআই-এর উত্থানকে ভয় না পেয়ে কৌতূহল ও সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে গেলে ভারতের তরুণ প্রজন্মের সামনে এক উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে—এটিই টাটা সন্সের প্রধানের মূল বার্তা।