তৃণমূলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’! দেড় লাখ ঘাসফুল পতাকা নিয়ে বিপাকে রাজু!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20267:48 pm
হাওড়ার উনসানী দক্ষিণ পাড়ার পরিচিত মুখ রাজু হালদার। পেশায় তিনি পতাকা তৈরির কারিগর। পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা— ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই রাজুর ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, ভিনরাজ্যেও পাড়ি জমায় তাঁর কারখানায় তৈরি রাজনৈতিক, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা।
সামনেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন, তারপরই পুরভোট। তাই আগেভাগেই গোডাউনে তৈরি করে রাখা হয়েছিল প্রায় দেড় লাখ তৃণমূলের ঘাসফুল পতাকা। রাজুর হিসেব ছিল— মমতাপন্থী বা ঋতব্রত পন্থী, যে গোষ্ঠীই প্রতীক পাক না কেন, পতাকার চাহিদা থাকবেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ তৃণমূলের প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দিতেই সমস্ত হিসেব ওলটপালট হয়ে যায়।
মাথায় হাত ব্যবসায়ীর গুদামে এখন থরে থরে সাজানো হাজার হাজার বস্তাবন্দি পতাকা। আচমকা এই সিদ্ধান্তের জেরে চরম আর্থিক বিপদে হাওড়ার এই ব্যবসায়ী। রাজু আক্ষেপ করে বলেন, “সারা বছর সব দলের পতাকা বানাই। কিন্তু তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় বড়সড় আর্থিক ধাক্কা খেলাম। এই দেড় লাখ পতাকা আর বিক্রি করার কোনো পথই রইল না।”
শুরু রাজনৈতিক তরজা ঘটনাটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চড়েছে রাজনীতির পারদ:
- বিজেপির তোপ: হাওড়া সদরের বিজেপি সম্পাদক ওমপ্রকাশ সিংহ কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল নেতারা নিজেদের স্বার্থের লড়াইয়ে দলটাকে শেষ করল, আর রাজু হালদারের মতো সাধারণ মানুষ পথে বসল।”
- তৃণমূলের বার্তা: মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা চন্দনকান্তি চক্রবর্তী পাল্টা দাবি করেন, “গদ্দারদের চক্রান্তে এই পরিস্থিতি হলেও আমরা আশাবাদী যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুব শীঘ্রই দলীয় প্রতীক ফেরত পাবেন এবং রাজুদের সমস্যার সমাধান হবে।”
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এক সিদ্ধান্তেই এখন দেড় লাখ ঘাসফুল পতাকা আর এক পতাকা কারিগরের ভবিষ্যৎ ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়!