পুজোয় এবার বিজেপির নজরে আমজনতার ‘নারী শক্তি’!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 20268:28 pm
উৎসবের মরশুমে এবার কোনো রূপোলি পর্দার তারকা বা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব নয়—আলোর বৃত্তের বাইরে থাকা সাধারণ, সংগ্রামী নারীদের সামনে আনতে চলেছে বিজেপি। দুর্গাপুজো ও কালীপুজোকে কেন্দ্র করে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীরবে কাজ করে যাওয়া নারীদের স্বীকৃতি দিতে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে বিশেষ কর্মসূচি—‘নারী শক্তি সম্মান’। বুথ স্তর থেকে অঞ্চল স্তর পর্যন্ত এই উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
কারা পাবেন এই বিশেষ স্বীকৃতি? বিজেপির তরফ থেকে জেলা নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো সেলিব্রিটি নয়, বরং অগ্রাধিকার দিতে হবে সাধারণ মানুষের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থাকে।
- স্বল্প আয়ের পরিবারের সংগ্রামী মহিলা।
- ক্ষুদ্র ব্যবসা বা স্বনির্ভর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নারী।
- সামাজিক ও আর্থিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করা মেধাবী ছাত্রী।
- সমাজের এমন নারীরা, যাঁদের লড়াইয়ের গল্প এতদিন অলক্ষ্যে থেকে গেছে এবং যাঁদের সামাজিক বা আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
কীভাবে বেছে নেওয়া হবে প্রাপকদের? বাছাই প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ স্থানীয় স্পর্শ। স্থানীয় পুজো কমিটিগুলির মাধ্যমে আগ্রহী নারীদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করা হবে। তবে আবেদন পেলেই সরাসরি চূড়ান্ত হবে না; সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব আবেদনগুলি যাচাই করবে এবং দলীয় পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করা হবে।
মাতৃশক্তি ও জনসংযোগের জোড়া লক্ষ্য: এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, বিজেপি সবসময়ই মাতৃশক্তির আরাধনা ও সুরক্ষায় বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ নারী সংরক্ষণের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক, তাই তৃণমূল স্তরের নারীদের সম্মানিত করার এই উদ্যোগ অত্যন্ত গর্বের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নারী শক্তি সম্মান’-এর পেছনে বিজেপির জোড়া কৌশল রয়েছে। একদিকের লক্ষ্য প্রতিভাবান ও সংগ্রামী নারীদের সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া, অন্যদিকে পুজোর মরশুমকে কাজে লাগিয়ে বুথ স্তরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের জনসংযোগ আরও নিবিড় করা।