‘বন্দে মাতরম’ না গাইলে জেল নয়! কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যা চাইল সুপ্রিম কোর্ট
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20269:10 am
নয়াদিল্লি: জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো ৬টি স্তবক না গাওয়ার অপরাধে জেল বা জরিমানার মতো ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত নয়— একটি মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে এই ইস্যুতে মোদী সরকারের কাছে আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
কর্নাটকের খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণা ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনি বিধানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। নতুন এই সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ বা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে বা বিঘ্ন ঘটালে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় শাস্তিই হতে পারে। আবেদনকারীর দাবি, শেষের ৪টি স্তবক গাওয়া আবশ্যিক করা হলে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী হবে। জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির প্রথম দিনের শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পুরোনো এক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বিবেকগত কারণে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম’-এর সব স্তবক না গায়, তবে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত নয়। সংবিধানে ‘জাতীয় গান’-এর স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও দীর্ঘদিনের রীতি ও ব্যবহারে প্রথম দুই স্তবককেই জাতীয় গীত হিসেবে গণ্য করা হয়।”
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারীর আইনজীবী এস মুরলীধর অভিযোগ করেন, নতুন আইনে জাতীয় গীতের সংজ্ঞা স্পষ্ট নয়, অথচ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা আইনের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। এর জবাবে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা এত সংকীর্ণ হতে পারে না। তাছাড়া ‘নকশালদের ভাবনা’ অনুযায়ী তো আর আইন তৈরি হতে পারে না!”
সলিসিটর জেনারেলের এই ‘নকশাল’ মন্তব্যে বিচারকক্ষে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী মন্তব্যটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানালে তুষার মেহতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন না। দুই পক্ষের বাকবিতণ্ডা চরমে পৌঁছালে সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং কেন্দ্রের কাছে লিখিত জবাব চেয়ে নোটিস জারি করে।