কোচবিহারের ভাগ্য বদলাবে এবার, ট্যুরিজম হাব গড়ার মেগা ঘোষণা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20269:02 am
রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী কোচবিহার ও রাজনগরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে এক বিশাল ‘ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন’। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ‘রিলিজিয়াস ট্যুরিজম’ বা ধর্মীয় পর্যটনের ওপর। মঙ্গলবার প্রথমবার কোচবিহার জেলা সফরে এসে এমনই একাধিক বড় উন্নয়নমূলক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মদনমোহন মন্দিরে পুজো ও বড় প্রতিশ্রুতি
সফরের শুরুতেই নিশীথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দির দর্শন শেষে তিনি জানান, কোচবিহারের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলাশাসক ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “অর্থের কোনো অভাব হবে না। আগামী একবছরের মধ্যেই কোচবিহারবাসীর স্বপ্ন পূরণ করা হবে।”
যোগাযোগব্যবস্থা ও পরিকাঠামোয় বড় চমক
ডুয়ার্সের জঙ্গল ও একশৃঙ্গ গন্ডারের আন্তর্জাতিক আকর্ষণের পাশাপাশি কোচবিহারকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পুণ্যার্থীদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। কিছুদিন আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মধুপুর সত্র সফর করেছিলেন। সেই ধারা বজায় রেখেই ধর্মীয় পর্যটন বৃদ্ধিতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে:
- যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: ট্রেন, বিমান এবং সড়ক পথের সংযোগ আরও সুদৃঢ় করা হবে।
- উন্নত বাসস্থান: পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য আধুনিক মানের হোটেল ও গেস্ট হাউস গড়ে তোলা হবে, যাতে কোচবিহারও টাইগার হিল বা ডুয়ার্সের মতো বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
২০২৭-এর ডেডলাইন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের ৯ মে-র মধ্যে কোচবিহারের সমস্ত প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রথম টেন্ডারেই সিংহভাগ কাজ কোচবিহারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।
পর্যটনের পাশাপাশি জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, পিএম আবাস, পিএম কিষান ও কৃষক বন্ধুর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলির কাজও জেলায় সমান তালে এগোচ্ছে। সফর শেষে কোচবিহারবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসন্ন রাস পূর্ণিমাতেই তিনি ফের জেলা সফরে আসবেন।