খবরে থাকতেই হামলার নাটক কুণালের!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 202612:48 pm
কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক ঘটে যাওয়া একাধিক বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে এবার সুর চড়ালেন রাজ্যের শীর্ষ বিজেপি নেতৃত্ব ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপর কথিত হামলা, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) সংঘর্ষ, বোলপুরে বিজেপি নেতা খুন এবং হরিদেবপুরের হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং বিরোধী শিবিরের মনোভাবকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
“খবরে থাকতেই এসব করেন কুণাল ঘোষ”
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার হামলার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট বক্তব্য, “কুণাল ঘোষ নিজের ওপর হামলা চালনোর জন্য মানুষকে ইচ্ছে করে উস্কানি দেন। শুধুমাত্র খবরের শিরোনামে থাকার জন্যই তিনি পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ করেন।” সংবাদমাধ্যমকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম সুযোগ দেয় বলেই বারবার এমন মনগড়া দাবি করা সহজ হয়।
SRFTI কাণ্ড ও ‘দেশবিরোধী’ শক্তি
রবিবার SRFTI চত্বরে শিক্ষার্থী ও একটি সংগঠনের সংঘর্ষ নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তাপের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, আগের সরকারগুলির ছত্রচ্ছায়ায় বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। অতীতে নকশাল আমলের মতো মহাপুরুষদের অপমান করার উত্তরসূরিরা এখনও রয়ে গেছে। তবে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী এসব কাজ সাধারণ মানুষ আর মেনে নেবে না। এই ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের স্পষ্ট ভাষায় ‘সমাজবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি।
বোলপুর হত্যা ও হরিদেবপুর নিয়ে ক্ষোভ
বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতিকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক হিংসাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র দফতর বিষয়টি দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের শেষ দেখে ছাড়া হবে।
অন্যদিকে, হরিদেবপুরের ক্লাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার পেছনে বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, যেকোনো হিংসাত্মক ঘটনায় বিজেপির নাম জড়ানো একটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। যারা ৫০ বছর ধরে রাজ্যে হিংসার রাজনীতি করেছে, তাদের মূল উপড়ে ফেলতে কিছুটা সময় লাগবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর এখন আর সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক মহলের কোনো ভরসা নেই। তিনি প্রতি মাসে ভরসার জায়গা পাল্টাচ্ছেন। খড়কুটো আঁকড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।”
ব্যাঙ্ক ধর্মঘট ও দলীয় সাংগঠনিক রদবদল
ব্যাঙ্ক ধর্মঘট স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ধর্মঘট করা আজকাল ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব।
পাশাপাশি, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা নীতিন নবীনের বঙ্গ সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলীয় সংগঠনের মানসিকতা বদল এবং দায়িত্ব বণ্টনে নতুন দিশা দিতে নির্দেশিকা এসেছে। বাংলায় পরিবর্তন এসেছে, এবার দলেও কার্যকর পরিবর্তন আসবে।