SRFTI কাণ্ডে বিস্ফোরক ঋত্বিক! তোলপাড় নেটপাড়া
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20268:12 pm
রবিবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)। অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (ABGP) একটি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের ভেতরে ছাত্র ও সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী হাতাহাতিতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার সোচ্চার হয়েছেন টলিউডের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
ঠিক কী ঘটেছিল ক্যাম্পাসে? ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, তাঁদের কোনোরকম পূর্বসূচনা না দিয়েই ক্যাম্পাসের মেন থিয়েটারে এবিজিপি-র এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ বেশ কিছু পড়ুয়া থিয়েটারে যান এবং না জানিয়ে কেন এই সভার অনুমতি দেওয়া হলো, সেই প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্টার লাগাতে শুরু করেন।
অভিযোগ, সেই সময়ই এবিজিপির সদস্যরা পড়ুয়াদের বাধা দেন এবং জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি ও রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ছাত্র সংগঠনের দাবি, বহিরাগতদের হামলায় বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তোপ ঋত্বিক চক্রবর্তীর: এই ঘটনার পর সোচ্চার হয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ছাড়াই গেট টপকে ঢোকার সংস্কৃতি যাদের, তারা সংস্কৃতিবিহীন অশিক্ষিত তো বটেই এবং অনেকাংশেই গুন্ডা!! কী একটা কনজিউমার সুরক্ষা সংস্থা SRFTI-এর অডিটোরিয়ামে সভা করার পারমিশন কেমন করে পায়? এত গুন্ডামিই বা কীভাবে করতে পারে?”
এখানেই না থেমে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঋত্বিক আরও লেখেন, “ছাত্রদের নৃশংসভাবে রক্তাক্ত করার সাহস ওদের কোথা থেকে আসে? যে বা যারা এই সভার পারমিশন দিয়েছে, তারাও ওই গুন্ডাগ্যাং-এর পার্ট কিনা তা খতিয়ে দেখুক প্রশাসন। দোষীদের শাস্তি হয় কিনা সেদিকে নজর থাকুক আমাদের সবার।”
কড়া জবাব অরিত্র দত্ত বণিকের: অন্যদিকে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকও এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একটি ফুটেজের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে সভার মাঝে এক ব্যক্তি আচমকা অন্য একজনকে লাথি মারতে পারে? অরিত্র লেখেন, “অনুষ্ঠান আয়োজক অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েত এই জবাব দিক যে, এই অনুষ্ঠান চলাকালীন এই অসভ্য লোকটা অন্যজনকে হঠাৎ গিয়ে লাথি মারলো কেন? ওনার কি কৃমির সমস্যা? স্বামী বিবেকানন্দের পোস্টার ব্যবহার করে বাঁদরামি, আবার গেরুয়া গুন্ডামি বললে গাত্রদাহ? কৃমির ওষুধ খেয়ে আসবেন পরের দিন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এসআরএফটিআই চত্বরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিল্পীমহলেও বইছে প্রতিবাদের ঝড়।