১ অক্টোবর থেকে কি UPI পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ? জানুন আসল সত্যিটা!
বার্তা ডেস্কঃ
September 28, 20268:28 pm
ডিজিটাল যুগে গুগল পে, ফোনপে বা পেটিএমের মতো ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট অ্যাপ ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। কিন্তু সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছে, নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনে দিতে হতে পারে অতিরিক্ত চার্জ। এই সিদ্ধান্তের স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালত এই নিয়মের ওপর এখনই কোনো স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্র সরকার, ইউপিআই স্টিয়ারিং কমিটি এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-কে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকায় সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে সরকারের সাফাই ও আদালতের প্রশ্ন
শুনানি চলাকালীন কেন্দ্র সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এন. ভেঙ্কটরামন আদালতকে স্পষ্ট জানান, এই চার্জ সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে না। প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেনই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। তাছাড়া, অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার ক্ষেত্রে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে মাত্র ৫ টাকা।
তিনি আরও জানান, এই টাকা কোনো সরকারি কর বা ফি নয় এবং সরকার এখান থেকে কোনো লাভ করবে না। মূলত ব্যাংক ও পেমেন্ট সংস্থাগুলোর লেনদেন পরিচালনা (Settlement) সহজ করতেই এই ব্যবস্থা।
তবে আদালতের প্রশ্ন, যদি এটি কোনো কর বা ফি না-ই হয়, তবে এই টাকা তোলার ভিত্তি কী? এর বিনিময়ে গ্রাহকরা বাড়তি কী সুবিধা পাচ্ছেন?
আসলে নিয়মটি কী?
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এনপিসিআই (NPCI) নির্দিষ্ট কিছু মার্চেন্ট পেমেন্টের ওপর এমডিআর (MDR) বা সার্ভিস চার্জ ধার্য করছে:
- ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে: ০.৪ শতাংশ চার্জ প্রযোজ্য হবে।
- ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনে: সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা চার্জ কাটা যেতে পারে।
- দৈনন্দিন ব্যক্তিগত লেনদেনে: সাধারণ মানুষের পকেটে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ছাড়
ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বড় ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইউপিআই কিউআর (UPI QR) কোডের মাধ্যমে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করবেন, তাঁদের কোনো ফি দিতে হবে না। এছাড়া রেল, টেলিকম, বীমা, জ্বালানি এবং কৃষিক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ফ্ল্যাট ৫ টাকা চার্জ রাখা হয়েছে।
মামলাকারীদের মূল আপত্তি কোথায়?
আদালতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছিল, ২০২০ সাল থেকে চালু থাকা ‘জিরো-ফি’ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত জনমত বা আইনি স্বচ্ছতা ছাড়া একতরফাভাবে সংশোধন করা হয়েছে।
যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট এখনই এতে স্থগিতাদেশ দেয়নি, তাই নির্ধারিত ১৫ অক্টোবর থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তন দেশের ডিজিটাল লেনদেন ও বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর সকলের।