CEC-র একচ্ছত্র রাজত্ব রুখতে নড়েচড়ে বসল সুপ্রিম কোর্ট, বিপাকে জ্ঞানেশ কুমার!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20262:30 pm
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে বড়সড় ফাটল! দুই সতীর্থ নির্বাচন কমিশনারকে পাশ কাটিয়ে ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। সাংবিধানিক নিয়ম না মেনে একক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই জনস্বার্থ মামলাটির জরুরি শুনানি হবে।
মামলাকারীদের কী দাবি? প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে বলেন, “সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে নেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান সিইসি সম্পূর্ণ একতরফাভাবে কাজ চালাচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সাংবিধানিক বিপর্যয়ের শামিল।”
এই মামলায় মূল আবেদনকারী সমাজকর্মী রাকেশ কুমার সিং আর্জিতে জানিয়েছেন:
- অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সবরকম প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক কাজ থেকে বিরত রাখা হোক।
- গত অক্টোবর থেকে কমিশনের সমস্ত নথি ও ফাইলের রেকর্ড তলব করা হোক।
- তদন্ত সাপেক্ষে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হোক।
- অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কমিশন চালানো হোক।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদপত্রের চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকার সংশোধন ও ‘এসআইআর’ (SIR) সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সমস্ত আপত্তিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একক সিদ্ধান্তেই কাজ চালিয়ে গিয়েছেন সিইসি।
মামলাকারীদের মতে, একজন ব্যক্তি যদি সমস্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে পুরো ভোটার তালিকা নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে দেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বিরাট প্রশ্ন উঠে যায়।