মহাঅষ্টমীর সকালে কোন রঙের পোশাকে দেবী প্রসন্ন হন? জেনে নিন শাস্ত্রীয় নিয়ম!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 20262:18 pm
শারদীয়া দুর্গোৎসবের মূল আকর্ষণ ও বাঙালির আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হলো মহাঅষ্টমীর সকাল। এদিন পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে মা দুর্গার আশীর্বাদ চাওয়ার রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে শাস্ত্র ও পুরাণ মতে, অঞ্জলির দিন পোশাকে সঠিক রঙ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল ফ্যাশন নয়, বরং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার এবং দেবীর কৃপা লাভের অন্যতম মাধ্যম।
অষ্টমীর অঞ্জলির জন্য কোন রঙগুলি সবচেয়ে শুভ?
- লাল: মহাশক্তি, পরম পবিত্রতা ও উৎসাহের প্রতীক। বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের জন্য লাল পেড়ে সাদা শাড়ি বা লাল রঙের পোশাক পরিধান করা অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়।
- হলুদ ও বাসন্তী: অভ্যন্তরীণ আনন্দ, সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের প্রতীক। জীবনে নতুন সূচনা এবং মানসিক শান্তি পেতে অঞ্জলির সময় হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরিধান করা ফলদায়ক।
- সবুজ: মা দুর্গার নবপত্রিকা বা ‘কলাবউ’ রূপ প্রকৃতির প্রতীক। তাই সবুজ রঙের পোশাক পরলেও মায়ের বিশেষ কৃপা মেলে।
ভুলেও যে রঙগুলি এড়িয়ে চলবেন
অষ্টমীর মতো পুণ্যতিথিতে কালো, গাঢ় নীল বা ধূসর (ধোঁয়াটে) রঙের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকা উচিত। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রঙগুলি নেতিবাচক বা অশুভ শক্তিকে আকর্ষণ করে।
দেবীর প্রিয় রঙের পৌরাণিক রহস্য
শ্রীশ্রীচণ্ডী ও পুরাণ অনুসারে, মা দুর্গা হলেন তেজ ও সাহসের সংমিশ্রণ। দেবীর প্রিয় রঙের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ দুটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা:
- লাল (শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক): মহিষাসুর বধের সময় দেবতারা ব্রহ্মময়ী দেবীকে রক্তবর্ণের বস্ত্র, লাল চন্দন এবং রক্তজবার মালা উপহার দিয়েছিলেন। লাল রঙ অসুরবিনাশী শক্তির প্রতীক হওয়ায় এই রঙে দেবী সবচেয়ে বেশি প্রসন্ন হন।
- হলুদ ও তপ্ত কাঞ্চন (মহাগৌরী রূপ): মহাঅষ্টমীর দিনে দেবীর ‘মহাগৌরী’ রূপের পুজো করা হয়। ঘোর তপস্যার পর দেবী পার্বতী কাঁচা সোনার মতো উজ্জ্বল গৌরবর্ণ লাভ করেছিলেন। তাই হলুদ বা সোনালী রঙ শুভতা ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আসে, যা মহাগৌরীর অত্যন্ত প্রিয়।
তাই এই অষ্টমীতে সঠিক রঙের পোশাক নির্বাচন করে মায়ের চরণে অঞ্জলি দিন, আপনার জীবন ভরে উঠুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।