৩০ সেকেন্ডে ১৪ হাজার ফুট নামল বিমান, ককপিটে প্রাণপণ লড়াই করে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 20268:30 pm
আমেরিকার ৯/১১ টুইন টাওয়ার হামলার মতো আরও এক শিউরে ওঠার মতো সন্ত্রাসবাদী ছক ভেস্তে গেল মাঝআকাশে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই (Flydubai)-র একটি বিমানে ভয়াবহ হাইজ্যাকের চেষ্টা নস্যাৎ করলেন বিমানে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন। নিজের শরীরে একাধিক ছুরির ক্ষত এবং রক্তপাত সত্ত্বেও হামলাকারী কো-পাইলটকে আটকে ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু মেম্বারের প্রাণ বাঁচালেন তিনি।
মাঝআকাশে শিউরে ওঠার মতো ফ্রি-ফল
বুধবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিয়ে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ (Boeing 737 MAX 8) বিমানটি। Flightradar24-এর ডেটা অনুযায়ী, মাঝআকাশে থাকা অবস্থায় হঠাৎই হু হু করে নিচে নামতে থাকে বিমানটি। প্রায় ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে থাকা বিমানটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ১৬,৬০০ ফুটে নেমে আসে। সবথেকে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, একপর্যায়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রায় ১৪,০০০ ফুট উচ্চতা হারিয়েছিল বিমানটি।
জারি হয় ‘হাইজ্যাক’ অ্যালার্ট
উচ্চতা হ্রাসের পরপরই ককপিট থেকে একের পর এক ইমার্জেন্সি সংকেত পাঠানো হয়। প্রথমে জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঠানো হয় বিপদসংকেত ‘৭৫০০’। আন্তর্জাতিক বিমান নিয়মে ‘৭৫০০’ কোডের অর্থ বিমানটি হাইজ্যাক বা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে।
এই সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইজরায়েলে তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। প্রস্তুত রাখা হয় ইজরায়েলি বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান। নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
ককপিটে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ৯/১১-এর ছক
ঘটনার তদন্তে নেমে ইজরায়েলি গোয়েন্দা ও সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি মাঝআকাশে থাকা অবস্থায় বিমানে থাকা ওমানের নাগরিক কো-পাইলট আচমকাই আক্রমণ চালান ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রধান ক্যাপ্টেনের ওপর। ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ছুরি দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করা হয়।
ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, ককপিটের দখল নিয়ে বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলা বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ধাক্কা মেরে ৯/১১-এর মতো ভয়াবহ আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল হামলাকারীর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু মারাত্মক আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যাপ্টেন। রক্তাক্ত অবস্থাতেই তিনি কো-পাইলটকে ফ্লাইটের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেননি। ককপিটে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে আসেন কেবিন ক্রু ও কয়েকজন অকুতোভয় যাত্রী। তারা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করে বাইরে বের করে আনেন।
জরুরি অবতরণ ও বর্তমান অবস্থা
বিপর্যয় এড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমান অবতরণের পর দ্রুত যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন ও অভিযুক্ত ফার্স্ট অফিসার। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।