সিউড়িতে মুখঢাকা যুবকদের তাণ্ডব, আতঙ্কে কাঁপছেন অনুব্রত!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 20268:32 pm
এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা, যাঁর দাপটে নাকি ‘বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত’, সেই অনুব্রত মণ্ডলই এখন নিজের সিউড়ি পার্টি অফিসে অসহায়! মুখে কাপড় বাঁধা ৩ যুবকের তাণ্ডব এবং সরাসরি কলার ধরে হুমকির সামনে পড়ে কার্যত আতঙ্কিত দেখাল ‘বীরভূমের বাঘ’কে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, হাতজোড় করে তাঁদের চলে যাওয়ার আর্জি জানাতে দেখা গেল তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতাকে।
কী ঘটেছিল সিউড়ির পার্টি অফিসে? বুধবার বিকেলে সিউড়ির তৃণমূল পার্টি অফিসে কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে বসেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। আচমকাই মুখে কাপড় বাঁধা তিন যুবক হাতে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে অফিসে চড়াও হয়। নিমেষের মধ্যে শুরু হয় এলোপাথাড়ি ভাঙচুর। টেবিল, চেয়ার এবং জানলার কাচ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত হয়ে চেয়ারেই বসে থাকেন অনুব্রত। সেই সময়েই এক যুবক লাঠি উঁচিয়ে তাঁর সামনের কাচের টেবিলে সজোরে আঘাত করে। কাচ ভেঙে অনুব্রতর চোখেও লাগে বলে খবর।
‘গত ১৫ বছরের অত্যাচার…’ ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, এক যুবক অনুব্রতর বুকে লাঠি ঠেকিয়ে চিত্কার করে বলছেন, “স্বীকার করুন, গত ১৫ বছর ধরে আপনি অত্যাচার করেছেন।” অনুব্রত ভয়ে ভীতিপ্রদ গলায় ‘কী চাস তোরা? থাম’ বললেও কেউ শোনেনি। উল্টে এক যুবক হঠাৎই অনুব্রতর জামার কলার চেপে ধরে শাসিয়ে বলে— “সিউড়িতে যেন আর না দেখি!” অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের সঙ্গে ফের বুকে লাঠি উঁচিয়ে মারার ভঙ্গি করা হলে শেষমেশ হাতজোড় করে অনুব্রত বলেন, “ঠিক আছে, এবার তোরা যা।”
হামলাকারীদের দাবি ও গ্রেফতার খবর পেয়ে সংবাদমাধ্যম পৌঁছালে হামলাকারী যুবকরা জানান, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। অনুব্রতর ১৫ বছরের অত্যাচারের প্রতিবাদ করতেই সাধারণ মানুষ হিসেবে তাঁরা এই পদক্ষেপ করেছেন, কারণ এতদিন পুলিশ-প্রশাসন তাঁর হাতের মুঠোয় থাকায় কেউ মুখ খুলতে পারেনি।
ঘটনার পরপরই সক্রিয় হয়ে সিউড়ি থানার পুলিশ অভিযুক্ত ৩ যুবককে গ্রেফতার করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হামলার খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। জেলা বিজেপি সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির যোগ অস্বীকার করে জানান, “এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। অনুব্রতর ওপর সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ এটি।” অন্যদিকে, এই ঘটনার পর অনুব্রত নিজে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি। শুধু এটুকুই বলেন, “আমাকে ভালোবাসলে আপনারা চলে যান।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।