৩.৬ লাখ আবেদন, নিষ্পত্তি মাত্র ৩০১! উত্তর ২৪ পরগনার ভোটারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বার্তা ডেস্কঃ
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় লক্ষাধিক মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকায় পুনরায় নাম তোলার জন্য জেলার সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি নাগরিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানালেও, সেই আবেদন নিষ্পত্তির গতি অত্যন্ত মন্থর। অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জমা পড়া বিশাল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০১টি আবেদনের ফয়সালা হয়েছে। এর ফলে নিজেদের ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্বের পরিচয় নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার পরিবার।
কী পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনায়? সীমান্তবর্তী ও শিল্পাঞ্চল সমৃদ্ধ এই জেলার বারাসাত, ব্যারাকপুর, বনগাঁ, বসিরহাট এবং বিধাননগর— ৫টি মহকুমাতেই ছবিটা কম-বেশি এক। ট্রাইব্যুনালে মোট ৩,৫৯,৩৭৫টি আবেদন জমা পড়েছে, যার সিংহভাগই এখনও বিচারাধীন। বহু বছর ধরে এ দেশে বসবাস করা সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা ঠিকানা সংক্রান্ত অন্যান্য নথির সামঞ্জস্য রাখা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংশয় বাড়ছে।
মতুয়া ও সংখ্যালঘু এলাকায় বড় প্রভাব জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট আবেদনের মধ্যে ২ লক্ষেরও বেশি আবেদন এসেছে মতুয়া ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকা থেকে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মতুয়াদের সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ট্রাইব্যুনালের এই ঢিমেতাল গতি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধপতি মমতাবালা ঠাকুর। তাঁর দাবি, “ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই বিপুল আবেদনের নিষ্পত্তি হতে কত বছর সময় লাগবে, আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে।”