জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলা কি অসম্ভব? মোদী সরকারের আইনে তোলপাড় দেশ!

বার্তা ডেস্কঃ

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী ব্যবস্থার একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া বিশেষ আইনি সুরক্ষাকবচ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। কার্যকাল শেষ হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না—কেন্দ্রের এই আইন সংশোধনের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী এই অভূতপূর্ব আইনি সুরক্ষাকবচ? সাধারণত ভারতের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপাল কিংবা উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা তাঁদের কার্যকালে নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা পান। কিন্তু ২০২৩ সালে পাস হওয়া সংশোধিত ‘চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনার্স (অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কন্ডিশন্স অব সার্ভিস অ্যান্ড টার্ম অব অফিস) অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের জন্য এক অভূতপূর্ব সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

এই আইন অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজের জন্য বর্তমান বা প্রাক্তন কোনো নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাবে না। এমনকি আগে থেকে দায়ের হওয়া কোনো মামলাও আর বহাল রাখা যাবে না।

সরকারের যুক্তি বনাম বিরোধীদের আক্রমণ কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই ধরনের আইনি সুরক্ষাকবচ থাকলে কমিশনাররা কোনো রাজনৈতিক বা বাহ্যিক চাপের মুখে না পড়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

তবে বিরোধী শিবিরের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইন্দিয়া (I.N.D.I.A) জোটের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আজীবন রক্ষাকবচ পাওয়া একমাত্র ভারতীয় জ্ঞানেশ কুমার কেন? উত্তর স্পষ্ট—ওঁকে ব্যবহার করেই ভোটে কারচুপি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।”

পশ্চিমবঙ্গ ও গোয়া প্রসঙ্গ এবং তীব্র ক্ষোভ সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ এবং গোয়ায় এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামতকে তোয়াক্কা না করে জ্ঞানেশ কুমার একতরফা পদক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। এর জেরেই তাঁর পদত্যাগ এবং আইনি ব্যবস্থার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *