বাড়ির মাঝখানে এই ৫টি ভুল করছেন না তো, থমকে যেতে পারে আপনার উন্নতি!

বার্তা ডেস্কঃ

আমরা অনেকেই বাড়ি সাজানোর সময় ঘরের দিক বা কোণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করলেও, একদম মাঝের জায়গাটিকে অবহেলা করে ফেলি। বাস্তুশাস্ত্রে বাড়ির এই কেন্দ্রস্থলকে বলা হয় ‘ব্রহ্মস্থান’। মানবদেহের জন্য যেমন নাভি বা হৃদয় অপরিহার্য, তেমনই একটি বাড়ির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির মূলে রয়েছে এই স্থানটি।

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মস্থান কোনো দোষে দুষ্ট হলে পরিবারের অগ্রগতি হঠাৎ থমকে যায়, অহেতুক চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য খরচ বাড়ে এবং ঘরে কোনো না কোনো সদস্য অসুস্থ থাকে। আপনার সংসারে সমৃদ্ধি বজায় রাখতে বাড়ির কেন্দ্রস্থলে এই ৫টি মারাত্মক ভুল এড়িয়ে চলুন:

১. ভারী জিনিসপত্র রাখা বাড়ির ঠিক মাঝখানে ভারী সোফাসেট, ডাইনিং টেবিল বা কাঠের আলমারি রাখা অনুচিত। ব্রহ্মস্থানে অতিরিক্ত চাপ বা ওজন থাকলে ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ আটকে যায়। এতে পরিবারের মূল উপার্জনকারী ব্যক্তির কর্মজীবনে নানাবিধ বাধা আসে।

২. সিঁড়ি বা শৌচাগার নির্মাণ আধুনিক ফ্ল্যাট বা ছোট বাড়িতে জায়গা বাঁচাতে মাঝখানে সিঁড়ি কিংবা শৌচাগার তৈরি করার প্রবণতা দেখা যায়। বাস্তুমতে এটি সবচেয়ে বড় দোষের একটি, যা গৃহবাসীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধির জন্ম দেয়।

৩. গ্যাস স্টোভ বা ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম কেন্দ্রস্থল সর্বদা উন্মুক্ত ও শান্ত হওয়া প্রয়োজন। এখানে রান্নাঘর করা, গ্যাস স্টোভ রাখা কিংবা ইনভার্টার বা জেনারেটরের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বসানো পারিবারিক কলহ এবং চরম অর্থ অপচয়ের কারণ হয়।

৪. জঞ্জাল বা জুতো রাখা ঘরের মাঝখানে পুরনো ভাঙাচোরা জিনিস, ঝাড়ু, ডাস্টবিন বা জুতো রাখার অভ্যাস থাকলে তা আজই বদলান। এই স্থান যত নোংরা থাকবে, পুরো ঘরে তত বেশি নেতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে পড়বে।

৫. স্তম্ভ বা কড়িকাঠ বাড়ি নির্মাণের সময় খেয়াল রাখুন যেন একদম মাঝখানে কোনো বড় পিলার বা কড়িকাঠ না পড়ে। ব্রহ্মস্থানে এমন স্থায়িত্ব বা ভারী কাঠামো পরিবারের ওপর ঋণের বোঝা ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বাড়ি নিখুঁত রাখতে সহজ কিছু নিয়ম:

  • স্থানটি ফাঁকা ও উজ্জ্বল রাখুন: এই জায়গাটি যতটা সম্ভব খালি রাখুন। এখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে ইতিবাচক শক্তি পুরো ঘরে সঞ্চালিত হয়।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: মেঝের মাঝের অংশ সর্বদা পরিষ্কার চকচকে রাখুন। প্রয়োজনে হালকা রঙের একটি সুন্দর গালিচা ব্যবহার করতে পারেন।
  • তুলসী গাছ স্থাপন: পুরনো ধাঁচের খোলা উঠোনযুক্ত বাড়ি হলে একদম কেন্দ্রে তুলসী মঞ্চ তৈরি করা অত্যন্ত শুভ।
  • বাস্তুদোষ কাটানোর উপায়: ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে যদি গঠনগত পরিবর্তন সম্ভব না হয়, তবে এই স্থানে একটি ছোট পিতলের পিরামিড, ক্রিস্টাল বল বা বাস্তুদোষ নিবারণ যন্ত্র স্থাপন করলে নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *