আদালতে দোষী সাব্যস্ত হতেই হাউমাউ কান্না, ব্লু ড্রাম কাণ্ডে রাতে কী করলেন মুসকান-সাহিল!
বার্তা ডেস্কঃ
মেরঠ: দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা উত্তরপ্রদেশের মেরঠের চাঞ্চল্যকর ‘ব্লু ড্রাম’ (Blue Drum) হত্যা মামলায় অবশেষে চূড়ান্ত রায় দিল আদালত। নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ড্রামে সিমেন্ট চাপা দেওয়ার ঘটনায় স্ত্রী মুসকান ও তাঁর প্রেমিক সাহিল—উভয়কেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক। আদালতের এই রায় শোনার পরই তীব্র অনুশোচনা ও আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দুই অভিযুক্ত।
রায় শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন মুসকান ও সাহিল সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট ড. বীরেশ রাজ শর্মা জানান, বুধবার জেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন মুসকান ও সাহিল। শুনানির সময় মুসকানের কোলে ছিল তাঁর ছোট্ট মেয়েটি। আদালত দু’জনকেই সৌরভকে হত্যা এবং অপরাধের প্রমাণ লোপাটের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পরই আদালত কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। রায় শোনামাত্রই ভিডিও কনফারেন্সিং রুম থেকে হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে আসেন মুসকান ও সাহিল।
দূরত্ব বজায় রেখে কাটালেন রাত, ছুঁলেন না খাবার জেল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের রায় ঘোষণার পর থেকেই চরম মানসিক বিপর্যয়ে রয়েছেন দু’জনে। যে প্রেমের জন্য তাঁরা নৃশংস অপরাধ ঘটিয়েছিলেন, সাজা পাওয়ার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণও বদলে গেছে। আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর মুসকান ও সাহিল একে অপরের দিকে ফিরেও তাকাননি। সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে দু’জনে নিজের নিজের ব্যারাকে ফিরে যান। গভীর মানসিক উদ্বেগের কারণে বুধবার রাতে দু’জনের কেউই রাতের খাবার স্পর্শ করেননি।
কী ঘটেছিল সেই ভয়ংকর দিনে? মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ প্রেমিক সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী সৌরভকে হত্যা করেন মুসকান। অপরাধ ঢাকতে সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে একটি নীল ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে জমাট বাঁধানো হয়। ঘটনার ১৫ দিন পর পুলিশ তদন্তে নেমে ভয়ংকর এই ঘটনার পর্দাফাঁস করে এবং দু’জনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়।
১০০০ পাতার চার্জশিট ও ১২৬টি শুনানি ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে জেলা আদালতে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ১,০০০ পাতার একটি বিস্তারিত চার্জশিট পেশ করেছিল। মামলা চলাকালীন মোট ১২৬টি শুনানির তারিখে ২২ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। সমস্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত দু’জনকেই অপরাধী সাব্যস্ত করেছে। আগামী ১৪ অক্টোবর সাজা নিয়ে আদালত সওয়াল-জবাব শুনবে, এবং তার পরেই অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ ঘোষণা করা হবে।