পাঠ্যবই থেকে ‘জল’, ‘আসমান’ বাদ! সরকারের আসল উদ্দেশ্য কী?
বার্তা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের স্কুলপাঠ্যে বড়সড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ব্যবহৃত ‘জল’, ‘আসমান’, ‘স্নান’ কিংবা ‘কিতাব’-এর মতো একাধিক শব্দ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পাঠ্যক্রম কমিটি। সরকারি সূত্রের দাবি, পাঠ্যবইয়ের ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত ও প্রমিত বাংলার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই সংশোধন। বিরোধী দলগুলির দীর্ঘদিনের আপত্তির পর অগাস্টের বৈঠকে বিষয়টি চিহ্নিত করে কমিটি। চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের যুক্তি, রামমোহন, বঙ্কিম বা রবীন্দ্রনাথের মতো মনীষীরা এসব শব্দ ব্যবহার করেননি এবং এগুলি অবিভক্ত বাংলায় প্রচলিত ছিল না। তবে সমালোচকদের একাংশ একে রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণ ও সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানান, সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শব্দ পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যক্রমে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় অষ্টম শ্রেণি থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন এবং ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণি থেকে কন্যাশ্রী প্রকল্প বাদ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিটির মতে, বিদেশি ও কান-অস্বস্তিকর শব্দ ছেঁটে ফেলে ভাষাভিত্তিক নিজস্বতা বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও প্রমিত ভাষার মান ধরে রাখতে এই খসড়া প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছে রাজ্য।