মমতার অ্যাকাউন্টে ইন্দ্রনীলের ৩০ লাখ! ফের বিস্ফোরক মদন মিত্র

বার্তা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ দুর্নীতি মামলায় এবার বিস্ফোরক মোড়। প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ট্রান্সফারের দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

বিস্ফোরক মদন মিত্র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নেমেছেন বিদ্রোহী বিধায়ক মদন মিত্র। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে যুক্ত এই নেতা সরাসরি মমতা ও ইন্দ্রনীলকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার দাবি তুলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দাবি— গোটা জেরা পর্বের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ করতে হবে, যাতে গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেই দৃশ্য চাক্ষুষ করতে পারে। রয়্যালটির অঙ্ক নিয়ে প্রকাশ্যে সন্দেহও প্রকাশ করেছেন তিনি।

কী বলছে ইডি? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমেই মমতার কাছে ওই টাকা যায়। জেরায় ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন, ওই অর্থ গান ও লেখালেখির ‘রয়্যালটি’ বাবদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ইডি তাদের প্রেস বিবৃতিতে মমতাকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেনি বা তিনি জেনেশুনে অপরাধলব্ধ কোনও টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেনি।

ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক অভিযোগ ইডি-র অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। তদন্তকারীদের দাবি, মন্ত্রী থাকাকালীন ইন্দ্রনীল এবং তাঁর সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে নগদ ৩.৮ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছিল। পাশাপাশি, সংস্কৃতি ও পর্যটন দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের টেন্ডার তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়। পরে সেই টাকা ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় যায় এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা তোলা হয়।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে ‘ম্যাসআর্ট’ (massArt) নামক একটি সংস্থার বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রির নামে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই সংস্থাটি ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেনের সঙ্গে যুক্ত। এর জেরেই সম্প্রতি ১৫টি ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনকে সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ১০ ঘণ্টা জেরা করে ইডি।

তৃণমূলের পাল্টা সাফাই এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশল’ বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বই, গান ও সুর সৃষ্টির জন্য দীর্ঘ সময় ধরেই বৈধভাবে রয়্যালটি পান, এর মধ্যে কোনও বেআইনি বিষয় নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক থেকে নজর ঘোরাতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে ইডি-কে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *