দুই হস্তিশাবকের নাম কেন ‘চৈতন্য’ ও ‘সুলক্ষণা’ রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী?

বার্তা ডেস্কঃ

দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের বাঘের মুক্ত বিচরণ শুরু হলো উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনীটিকে জঙ্গলে মুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হলো রাজ্যের প্রথম সংগঠিত ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প।

বাঘিনী ছাড়ার পাশাপাশি এ দিন জঙ্গলের দুই খুদে হস্তিশাবকের নামকরণও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বনকর্মীদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি পুরুষ শাবকটির নাম রাখেন ‘চৈতন্য’ এবং মহিলা শাবকটির নাম দেন ‘সুলক্ষণা’। নামকরণের মজার গল্প শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুরুষ শাবকের মায়ের নাম ছিল ‘চৈতি’, তাই তার ব্যাটার নাম রাখা হয়েছে ‘চৈতন্য’। আর মহিলা শাবকের মা ‘সুমঙ্গলা’-র নামের সাথে মিলিয়ে তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুলক্ষণা’।

উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে বক্সার জঙ্গলে আরও তিনটি বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন, অতীতে নামেই শুধু টাইগার রিজ়ার্ভ ছিল, কিন্তু বাস্তবে বাঘ ছিল না। বর্তমান সরকার বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বক্সার জঙ্গলকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। জয়ন্তী ও মানস সংলগ্ন প্রায় ২০০০ একর জমি চিহ্নিত করে দ্রুত একটি ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফরেস্ট ডেস্টিনেশন’ তৈরির কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক হলং বনবাংলো পুনর্নির্মাণ, বন্ধ চা বাগান পুনরায় চালু করা এবং চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান সুনিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *