সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের ভয়াবহ আকাল, ঘোর সঙ্কটে ভারত-সহ ৬৭ দেশ!

বার্তা ডেস্কঃ

আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারত-সহ বিশ্বের ৬৭টি দেশে সরকারি চিকিৎসকের ভয়াবহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) সম্প্রতি এমনই এক উদ্বেগজনক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই ওই ৬৭টি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রককে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে তারা।

‘হু’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দেশগুলিতে কর্মরত প্রতি চারজন সরকারি চিকিৎসকের মধ্যে অন্তত একজন অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। অর্থাৎ, মোট সরকারি চিকিৎসকের ২৫ শতাংশেরই বয়স ৫৫ বছর বা তার বেশি। এই বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক একসঙ্গে অবসর নিলে, ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলে রাতারাতি সেই শূন্যস্থান পূরণ করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

সমস্যা আরও গভীরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গোটা পৃথিবীতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের সংখ্যা ২৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাবে। এই বিপুল সংখ্যক প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ‘মেডিক্যাল ফোর্স’ বা ডাক্তার না থাকলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। তাই এখন থেকেই বিকল্প রাস্তা খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে ‘হু’।

ভারতের পরিস্থিতি ঠিক কেমন? কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, ‘হু’-এর পরিসংখ্যানে ২৫ শতাংশ চিকিৎসকের বয়স ৫৫-এর বেশি বলা হলেও, ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১২.৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ, তুলনামূলকভাবে ভারত কিছুটা সুরক্ষিত জায়গায় রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রক এটাও মেনে নিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই সঙ্কট ভারতেও আছড়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। আর এমনটা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ, যাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এমনিতেই বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়।

কীভাবে মোকাবিলা হবে? ভবিষ্যতের এই চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণে এখন থেকেই বিকল্প পথের সন্ধান করছে কেন্দ্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কীভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং টেলিমেডিসিন পদ্ধতিকে আরও বেশি করে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ‘হু’-এর সতর্কবার্তার পর গোটা বিষয়টি পর্যালোচনা করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *