শুধু ক্যাপ্টেন নন, মাঝ আকাশে ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচাল ৬ বছরের নিনা!
বার্তা ডেস্কঃ
মাঝ আকাশে তখন প্রবল মৃত্যুভয়। ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরি দিয়ে কোপাচ্ছে খোদ কো-পাইলট! বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাত্র ৯০ সেকেন্ডে ১৭,৪০০ ফুট নীচে নেমে গিয়েছে আস্ত বিমান। ঠিক সেই মুহূর্তে দেবদূতের মতো ত্রাতা হয়ে উঠল ৬ বছরের ছোট্ট নিনা। তার ও তার পরিবারের উপস্থিত বুদ্ধিতেই সেদিন প্রাণ বেঁচেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের (FlyDubai) FZ1073 বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর।
ককপিটে সেদিন কী ঘটেছিল? দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভ যাচ্ছিল বিমানটি। মাঝপথে আচমকাই ওমানের নাগরিক বলে পরিচিত কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেনের ওপর ছুরি নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। বিমানের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে।
যেভাবে হিরো হয়ে উঠল ছোট্ট নিনা সেসময় মায়ের সঙ্গে ককপিটের কাছের শৌচাগারে যাচ্ছিল ছ’বছরের নিনা মানেস। ককপিটের ভিতর থেকে গোঙানি আর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তারা বুঝতে পারে মারাত্মক কিছু ঘটছে। দরজা খুলতেই দেখা যায় রক্তারক্তি কাণ্ড। পরিস্থিতি বুঝে নিনার মা তালি চিৎকার করে ওঠেন, “পাইলটকে ছুরি মারছে, বাঁচান!”
প্লেন তখন তীব্র বেগে নীচে নামছে। নিনার বাবা তজভিকা মানেস জানিয়েছেন, মেয়েরা তখন কাঁদছে আর বলছে, “বাবা, আমরা মরতে চাই না।” মেয়েদের সেই কান্নাই তাঁকে ককপিটের দিকে ছুটে যেতে বাধ্য করে। তিনি এবং আরও কয়েকজন যাত্রী মিলে হামলাকারী কো-পাইলটকে মাটিতে চেপে ধরে কাবু করেন।
পাইলটের প্রাণ বাঁচালেন ডেন্টিস্ট ক্যাপ্টেন স্মিত তখন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত। বিমানে যাত্রীদের মধ্যে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। তবে এগিয়ে আসেন এক ডেন্টিস্ট (দাঁতের চিকিৎসক)। তিনি অক্সিজেন ও কম্বল দিয়ে পাইলটের রক্তপাত বন্ধ করে তাঁর জীবন বাঁচান। এরপর বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা ছুটিতে থাকা অন্য এক পাইলট বিমানের স্টিয়ারিং ধরেন এবং সৌদি আরবের তাবুকে বিমানটির জরুরি অবতরণ করান।
সাহসিকতার প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মাঝ আকাশে এই অসীম সাহসিকতার জন্য শুক্রবার ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কো-পাইলটকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে। ইজরায়েলগামী বিমানে কীভাবে এমন বড়সড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন হল, তা নিয়ে জোর কদমে তদন্ত শুরু করেছে ইজরায়েল, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।