লিঙ্গ পরিবর্তনে বাধা দেওয়ায় মায়ের ওপর নাবালক সন্তানের নৃশংস হামলা, অতঃপর খুন!

বার্তা ডেস্কঃ

লখনউ: লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন মা। আর তার জেরেই জন্মদাত্রী মাকে রেঞ্চ দিয়ে পিটিয়ে খুন করল ১৭ বছরের এক কিশোর! চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক ভয়াবহ তথ্য— মাকে খুনের পর নাবালক হিসেবে তার কী শাস্তি হতে পারে, তা আগেভাগেই ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT) থেকে জেনে নিয়েছিল অভিযুক্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মগতভাবে পুরুষ হলেও ওই কিশোর নিজেকে নারী বলেই মনে করত এবং পৃথিবী তাকে সেভাবেই মেনে নিক, এমনটাই চাইত। সে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য ‘জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি’ করাতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি। বদলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার মানসিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যায় ওই কিশোর। সেখানে মা তাকে অস্ত্রোপচারের বদলে আবারও মানসিক কাউন্সেলিং করানোর কথা বলেন। এই নিয়েই মা ও সন্তানের মধ্যে বচসা চরমে ওঠে। রাগের মাথায় নিজের সঙ্গে লুকিয়ে আনা একটি রেঞ্চ দিয়ে মায়ের মাথায় এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে সে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মহিলার। এরপর ওই কিশোর নিজেই পুলিশকে ফোন করে ঘটনার কথা জানায়।

নাকা হিন্দোলা থানার পুলিশ ফ্ল্যাটে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ওই কিশোরকে আটক করে। জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে সে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত খুন। অভিযুক্তের ডায়েরি থেকে খুনের ছক উদ্ধার হয়েছে, যেখানে রেঞ্চ, লঙ্কার গুঁড়ো এবং গরম জল ব্যবহারের কথা লেখা ছিল। খুনের পর পুলিশের পদক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করতে চ্যাটজিপিটি-র সাহায্য নিয়েছিল সে।

জানা গিয়েছে, ছেলেটি বেশ কিছুদিন ধরেই নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। এমনকী বাবা-মায়ের স্নেহপূর্ণ স্পর্শেও সে অস্বস্তি বোধ করত। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার বাবা লখনউতেই তার থাকার জন্য আলাদা একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দিয়েছিলেন। সেখানে পরিবারের কারও যাওয়ার অনুমতি ছিল না। কিন্তু মা চাইতেন সন্তান তাঁর সঙ্গেই থাকুক। সেই অধিকারবোধ ও অস্ত্রোপচারের বিরোধিতাই শেষ পর্যন্ত ডেকে আনল এই মর্মান্তিক পরিণতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *