ইডির নথিতে মমতার নাম! ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে এবার বড়সড় বিস্ফোরণ! এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এবার সরাসরি উঠে এল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ইডির দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মালিকানাধীন সংস্থা ‘Octave Records’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি পাঠানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে।
কেন এই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন? একই নথিতে দাবি করা হয়েছে, জেরার মুখে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন— ওই ৩০ লক্ষ টাকা মূলত ‘রয়্যালটি’ বাবদ দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘MassArt’-এর আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে কলকাতার ১৫টি জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। এরপরই ইন্দ্রনীল সেনকে ডেকে টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, ইন্দ্রনীল মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এবং তাঁর সংস্থার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩.৮ কোটি টাকা নগদ জমা পড়েছিল। সেই লেনদেনের সূত্র ধরেই এই ৩০ লক্ষ টাকার হিসাব সামনে এসেছে।
নজরে ৮৫ কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারি! তদন্ত শুধু প্রিভিউ শো-তেই থেমে নেই। ইডির নজরে রয়েছে ইন্দ্রনীল সেনের সময়কার পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের বেশ কয়েকটি টেন্ডার।
- অভিযোগ: ইন্দ্রনীল সেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের সংস্থাকে এই টেন্ডারগুলি পাইয়ে দিয়েছিলেন।
- টাকা পাচার: তদন্তকারীদের দাবি, ওই সংস্থাগুলি টেন্ডার পাওয়ার পর বিপুল অঙ্কের টাকা ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের সংস্থায় ঘুরপথে ট্রান্সফার করে। এমনকি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচুর নগদ টাকা তোলার প্রমাণও মিলেছে।
পুজোর পাসে ৫০-৬০ কোটি টাকার নয়ছয়! MassArt-এর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে প্রতারণার জাল কতদূর ছড়িয়েছিল, তা জেনে কার্যত হতবাক তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ইউনেসকো (UNESCO)-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। কলকাতার ২৪টি নামিদামি পুজোমণ্ডপের প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির নামে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অনুমান করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আপাতত গোটা ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া ইডি।