ভোর থেকে লাইনে ইট-জল, বালুরঘাট হাসপাতালে জন্ম শংসাপত্র পেতে চরম ভোগান্তি!

বার্তা ডেস্কঃ

বালুরঘাট: পুরোনো হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্র ডিজিটাল করার সরকারি নির্দেশ জারি হতেই বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে উপচে পড়ছে ভিড়। প্রতিদিন ভোর না হতেই হাসপাতাল চত্বরে লম্বা লাইন পড়ছে। নিজের জায়গা ধরে রাখতে কেউ লাইনে জলের বোতল, তো কেউ ইট-পাথর রেখে অপেক্ষা করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বয়স্ক নাগরিক, মহিলা এবং শিশুদের নিয়ে আসা সাধারণ মানুষ।

শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ জন্ম শংসাপত্র ডিজিটাল করাতে আসছেন বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি আবেদন জমা পড়ছে। ফলে সুপার অফিসের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সামনে সকাল থেকেই তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। আবেদনকারীদের ক্ষোভ, পর্যাপ্ত ছাউনি ও বসার ব্যবস্থা না থাকায় গরমের মধ্যে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, হয় অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা চালু করা হোক, নয়তো একাধিক কাউন্টার খুলে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হোক। এতে ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্রের আবেদন করতে আসা বালুরঘাটের রুমকি মণ্ডল ও বুনিয়াদপুরের মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা করতে পেরেছি। অনলাইনে এই কাজ হলে এতটা কষ্ট করতে হতো না। আজ আবেদন করলাম, সার্টিফিকেট হাতে পেতেই প্রায় দুই-তিন মাস সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।’

কাউন্টার বাড়ানো যাচ্ছে না কেন? হাসপাতালের এক আধিকারিকের ব্যাখ্যা, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের পোর্টালটি কেন্দ্রীয় ভাবে পরিচালিত হয়। সেখানে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের মাত্র একটি লগ-ইন আইডি রয়েছে। নিয়মানুযায়ী এক সঙ্গে একটিমাত্র কম্পিউটারে লগ-ইন করা সম্ভব, তাই চাইলেও একাধিক কাউন্টার খোলা যাচ্ছে না।

সূত্রের খবর, শুধুমাত্র বালুরঘাট মহকুমায় প্রায় ৭০-৮০ হাজার পুরোনো জন্ম শংসাপত্র রয়েছে, যেগুলিকে ডিজিটাল করা হবে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৮-৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। পুরোনো নথি ডিজিটাল করার পাশাপাশি নতুনদের কাজও করতে হচ্ছে। সমস্ত নথি স্ক্যান করে পোর্টালে আপলোড করতে হওয়ায় প্রতিটি কাজে কিছুটা সময় লাগছে। তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের আশ্বাস, পর্যাপ্ত কর্মী থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপাল দেবের অভিযোগ, ‘সরকারি পরিষেবার নামে সাধারণ মানুষকে ফের কাগজপত্রের চক্করে ফেলে হয়রানি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দিনের পর দিন হাসপাতালে চক্কর কাটতে হচ্ছে।’ অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, ‘এই কাজ আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। হাতে লেখা নথির কারণে বহু দুর্নীতি হয়েছে। ডিজিটাল নথি চালু হলে ভবিষ্যতে সরকারি কাজে সাধারণ মানুষেরই সুবিধা হবে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *