সুকান্ত-শমীকদের কড়া বার্তা, টিকিট মিলবে কি!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: কাটমানি ও তোলাবাজির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের আগে থেকেই দলীয় স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে পদ্মশিবির। দলের কেউ তোলাবাজি বা আর্থিক অনিয়মে জড়ালে সরাসরি গ্রেফতারের নিদানও দিয়ে দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এমনকি আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, দলের নিয়ম না মানলে তার পরিণতি অত্যন্ত কঠোর হবে।

এবার নিচুতলার কার্যক্রমে রাশ টানতে আরও এক ধাপ এগিয়ে কঠোর নিয়ম চালু করল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। দলের অন্দরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ—

  • হিসাবের স্বচ্ছতা বাধ্যতামূলক: দলের যেকোনো কর্মসূচিতে কোথা থেকে তহবিল আসছে এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ হচ্ছে, তার পাই-পাই হিসাব রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠাতে হবে।
  • জিরো টলারেন্স নীতি: আর্থিক অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতির প্রশ্নে রাজ্য নেতৃত্ব কোনোভাবেই আপস করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
  • পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রক্রিয়া: কর্মসূচির খরচ এবং আয়ের সম্পূর্ণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জেলা সভাপতির কাছে জমা দিতে হবে।
  • তোলাবাজিতে কড়া নিষেধাজ্ঞা: জোর করে টাকা আদায় বা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে দল তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না।
  • রিপোর্টিং সিস্টেম: জেলা সভাপতি সেই হিসাব পাঠাবেন জেলা ইনচার্জের কাছে, আর জেলা ইনচার্জ তা জানাবেন সরাসরি রাজ্য কমিটিকে। পুরো বিষয়টি শৃঙ্খলার বেড়াজালে বাঁধা হচ্ছে।

কী বলেছেন সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্য?

এর আগে দলের একাংশ কর্মীকে সতর্ক করে সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, তোলাবাজি বা অনিয়ম যারা করছেন, তাদের সবার ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং ফাইল তৈরি হচ্ছে। এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে দল থেকে টিকিট পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিজেপি একটি সুশৃঙ্খল দল এবং দলের প্রতিটি কর্মীর ওপর কড়া নজরদারি রয়েছে। শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নন। তবে অভ্যন্তরীণ দলীয় বিষয় সংবাদমাধ্যমে পুরোপুরি না জানালেও, দলীয় অনুশাসন ভঙ্গকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *