অশোকনগরে হাড়হিম কাণ্ড, প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতা ও তাঁর বাবার রহস্যমৃত্যুতে তীব্র চাঞ্চল্য!

বার্তা ডেস্কঃ

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এক বাড়িতে বাবা ও ছেলের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার সকালে বাড়ির বারান্দা থেকে উদ্ধার হয় তৃণমূলের প্রাক্তন যুব সভাপতি সঞ্জয় রাউতের (৪৯) ঝুলন্ত দেহ। অন্যদিকে, ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর বৃদ্ধ বাবা কমল রাউতকে (৭০)। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা দু’জনেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় নেমে এসেছে শোক ও ভয়ের ছায়া।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে কী জানা যাচ্ছে?

  • ঘটনা কী ঘটেছিল? এ দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বারান্দায় সঞ্জয় রাউতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। পাশেই ঘর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁর বাবা কমল রাউতকে। দ্রুত অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান।
  • প্রাথমিক অনুমান: পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সঞ্জয় তাঁর বাবাকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিজে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন। তবে কমলবাবুর মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
  • ব্যবসার মন্দা ও মানসিক চাপ: প্রতিবেশীদের দাবি, পেশায় আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী সঞ্জয়ের ব্যবসায় বেশ কিছুদিন ধরেই মন্দা চলছিল। যার জেরে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।
  • রাজনৈতিক পরিচয়: সঞ্জয় রাউত একসময়ে অশোকনগর এলাকার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন এবং এলাকায় যথেষ্ট পরিচিত মুখ ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রাক্তন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর সঙ্গেও তাঁকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যেত।

পরিবারে বাবা ও ছেলেই থাকতেন এবং সঞ্জয় অবিবাহিত ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্য কি শুধুই ব্যবসায়িক ক্ষতি ও মানসিক অবসাদ, নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সমস্ত দিক খোলা রেখে তদন্ত শুরু করেছে অশোকনগর থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *