কলকাতায় নীল-সাদার দিন শেষ, ই এম বাইপাসে বদলাল রঙের চমক!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা শহরের পরিচিত দৃশ্যপট থেকে এবার ধীরে ধীরে বিদায় নিতে চলেছে রাজ্যের একসময়ের পরিচিত নীল-সাদা রং। ধর্মতলার পর এবার কলকাতার ব্যস্ততম ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস (EM Bypass)-এও শুরু হয়েছে বড় পরিবর্তন। বাইপাস সংলগ্ন ডিভাইডার ও ব্যারিকেড থেকে নীল-সাদা রং সরিয়ে তার জায়গায় করা হচ্ছে হলুদ, কালো ও সাদা রঙের প্রলেপ।
কেন এই রংবদল?
নতুন এই রঙের ব্যবহারের নেপথ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও ট্রাফিক নিরাপত্তার কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ এবং কালো রঙের কনট্রাস্ট বা বৈসাদৃশ্য অনেক বেশি হওয়ায় যেকোনো ধরনের তীব্র আলো কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও এর দৃশ্যমানতা (Visibility) দারুণ থাকে। ঠিক এই কারণেই গোটা বিশ্বের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও হাইওয়ে পরিচালনায় এই রঙের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত।
পুরনো প্রেক্ষাপট
তৃণমূল সরকারের আমলে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ভবন, ফুটপাথের রেলিং ও সরকারি সম্পত্তিতে মূলত নীল-সাদা রঙের একচ্ছত্র ব্যবহার দেখা যেত। তবে এই নির্দিষ্ট রঙের কোনো বৈজ্ঞানিক বা ট্রাফিক-ভিত্তিক ভিত্তি ছিল না। এবার ট্রাফিক সুরক্ষা ও দৃশ্যমানতাকে প্রাধান্য দিয়ে শহরের রাস্তাঘাটের চেহারা বদলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কড়া নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
শুধু রাস্তা বা ডিভাইডার রঙ করাই নয়, পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বাংলাকে আবর্জনামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কাজের তদারকি করছেন তিনি।
তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—রাস্তায় জঞ্জাল ফেলা, ফুটপাথ দখল কিংবা অবৈধ পার্কিং কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শহরের রাস্তাঘাটে যত্রতত্র থুতু ফেলা, আবর্জনা ফেলা বা প্রকাশ্যে নিয়ম ভাঙলেই এ বার থেকে কঠোর জরিমানার মুখে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ কলকাতার লক্ষ্যে এই বহুমুখী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।