ককপিটে প্রার্থনার নাম করে সহ-পাইলটের হামলা! ফ্লাইদুবাইয়ের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ভারতীয় পাইলট
বার্তা ডেস্কঃ
ফ্লাইদুবাই (Flydubai) বিমানের ককপিটে ওমানি সহ-পাইলটের ভয়ানক হামলার শিকার হয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ভিডিও কলের কথোপকথনে সেই লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন তিনি। এই চরম সংকটের মুহূর্তেও তাঁর সাহসিকতা ও ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত কীভাবে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে, তা নিয়েই এখন চর্চা চলছে বিশ্বজুড়ে।
ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে? নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথোপকথনে ক্যাপ্টেন স্মিত জানান, ফ্লাইটটি একদম স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছিল। সহ-পাইলট প্রার্থনা করার জন্য নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ান। স্থানীয় ক্রু সদস্যদের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ঘটনা হওয়ায় সম্মান জানিয়ে স্মিত পিছন না ফিরে সামনের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। এর চার-পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল বিমানে হয়তো বড় কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা ধাক্কা লেগেছে। কিন্তু পরপর আঘাত আসতে থাকায় তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর পাশেই বসা সহকারী পাইলট তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করছেন।
ঝাপসা দৃষ্টি ও তীব্র গতিতে নামতে থাকা বিমান সহ-পাইলটকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথম দফার আঘাতেই স্মিতের দৃষ্টিশক্তি প্রায় চলে যায় এবং সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিমানটি তীব্র গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মেঝেতে লুটিয়ে পড়েও হাল ছাড়েননি স্মিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, নিজের এবং যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে এটিই তাঁর শেষ সুযোগ। শেষ শক্তি দিয়ে তিনি কোনোমতে দরজার কাছে পৌঁছে নব (Knob) ঘুরিয়ে ককপিটের দরজা খুলে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে থাকা কর্মীরা ভেতরে ঢুকে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন এবং বড় ধরণের দুর্ঘটনা এড়ান।
নেতানিয়াহুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিতের এই সাহসিকতার তীব্র প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “আসাম্ভব পরিস্থিতিতে আপনার এই সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই অভূতপূর্ব। আপনি শুধু বহু মানুষের প্রাণই বাঁচাননি, বরং গোটা বিশ্বকে এক অনন্য বার্তা দিয়েছেন।”
কথোপকথনের শেষে নেতানিয়াহু স্মিতের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসকের কথাও উল্লেখ করেন, যাঁকে স্মিত তাঁর জীবন বাঁচানোর অন্যতম কারিগর বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি ইজরায়েলের পরবর্তী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে স্মিত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মশাল জ্বালানোর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।