পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটছে না? কর্মজীবী মহিলাদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা!

বার্তা ডেস্কঃ

ব্যস্ত জীবনের দৌড়ে নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ার সময়টুকুও অনেকেরই হয়ে ওঠে না। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হলেও, অজান্তেই ভেতর থেকে ভেঙে পড়তে পারে শরীর। বিশেষ করে যে সমস্ত কর্মরত মহিলারা একই সঙ্গে ঘর-সংসার ও অফিসের গুরুদায়িত্ব সামলান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই শারীরিক অবহেলা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। আর ঠিক এই কারণেই নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিলেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরি।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও কেন এই ক্লান্তি? বর্তমান যুগে কর্মরত মহিলাদের বড় একটা অংশের ঠিকমতো ঘুমানোর সময়ও জোটে না। অনেক ক্ষেত্রে দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েই তাঁদের দিন কাটাতে হয়। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ অবসন্ন হয়ে পড়ে। তবে পুষ্টিবিদ রাশির মতে, শুধু কম ঘুম হওয়াই একমাত্র কারণ নয়; পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও যদি শরীর চাঙ্গা না হয়, তবে তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। শরীরে ঠিক কী ধরনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা হরমোনের গোলমাল দানা বাঁধছে, তা সময়মতো ধরতে কিছু নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কোন টেস্টটি কেন জরুরি? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নারীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্লাড টেস্ট করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ রাশি চৌধুরি। তাঁর মতে, অনেক সময় রক্তের সাধারণ ল্যাব রিপোর্ট স্বাভাবিক এলেও শরীরের কিছু উপসর্গ বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সারা দিন অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অবসাদ বোধ করলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো উচিত।

এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো DHEAS টেস্ট। পুষ্টিবিদের মতে, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি ক্লান্তিভাব না কাটে, তবে অবিলম্বে ডিহাইড্রোএপিঅ্যান্ড্রোস্টেরন সালফেট (DHEAS) পরীক্ষা করানো দরকার। সাধারণত রক্তে এর আদর্শ মাত্রা ১৫০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা উচিত। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর থেকে) মহিলাদের শরীরে এই উপাদানের মাত্রা প্রতি বছর প্রায় ২ শতাংশ করে কমতে শুরু করে। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ছোট বিষয়গুলোর প্রতি এখনই নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *