ছাব্বিশের আগে অগ্নিপরীক্ষা! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কার জয়জয়কার?
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আয়োজিত হতে চলেছে হাইভোল্টেজ জোড়া উপনির্বাচন। একদিকে নতুন শাসকদলের জন্য এটি শক্তিপ্রদর্শনের জায়গা, অন্যদিকে বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বিরোধী শিবির।
নন্দীগ্রামে নজিরবিহীন সমীকরণ বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম ‘হটসিট’ নন্দীগ্রাম বরাবরই ঐতিহাসিক উত্থান-পতনের সাক্ষী। দীর্ঘ ১৫ বছর রাজ্য চালানোর পর ছাব্বিশের ভোটে বিপর্যয়ের মুখে পড়া তৃণমূল কংগ্রেস এবার নন্দীগ্রামের ময়দানে প্রার্থীহীন। জোড়াফুল প্রতীক সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ।
রেজিনগরেও কঠিন টক্কর অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর একদা ছিল কংগ্রেসের দুর্গ। পরবর্তীকালে সেখানে ঘাসফুলের প্রভাব বাড়লেও ২০২৬-এর নির্বাচনে জয়ী হন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র হুমায়ুন কবীর। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই এই উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ুনের ছেলে। এদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও রেজিনগরের সংখ্যালঘু মন জয় করতে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে রেখেছেন।
প্রচারে অনুপস্থিত মমতা, চর্চায় নতুন রাজনীতি গত কয়েক দশকে রাজ্য রাজনীতিতে এমন কোনো উপনির্বাচন দেখা যায়নি যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় প্রচার ছিল না। তবে চব্বিশের হারের পর এবার নন্দীগ্রাম কিংবা রেজিনগর—কোনো কেন্দ্রেই প্রচারে যাননি তিনি। উপনির্বাচনের প্রচার ছেড়ে তাঁর দিল্লি সফরে বিরোধী বৈঠকে যোগ দেওয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হচ্ছে জোড়া উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ছাব্বিশের ক্ষমতা বদলের পর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রায় কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যের।