চরম দারিদ্র্য জয় করে বিশ্বজয়ী রোশিবিনা, দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন এই অদম্য কন্যা!
বার্তা ডেস্কঃ
প্রতিভা আর অদম্য জেদ থাকলে সব প্রতিকূলতাই জয় করা সম্ভব—তারই জীবন্ত উদাহরণ মণিপুরের মেয়ে নাওরিম রোশিবিনা দেবী। আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করা এই অ্যাথলেটের সাফল্যের উজ্জ্বলতার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন লড়াই এবং এক বাবার অসীম ত্যাগের গল্প।
মেয়ের স্বপ্নে আলো জ্বালতে জমি বিক্রি বাবার মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলার এক অতি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম রোশিবিনার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ থাকলেও আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে দারিদ্র্যকে মেয়ের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি বাবা দামু সিং ও মা। মেয়ের প্রতিভা চিনতে পেরে তাঁর প্রশিক্ষণ এবং যাতায়াতের খরচ জোগাতে নিজের একখণ্ড জমিও বিক্রি করে দেন বাবা। পাটিয়ালার জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য যখন প্রায় ৪০ হাজার টাকার দরকার ছিল, চরম সংকটের মধ্যেও সেই টাকা জোগাড় করে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা।
সহিংসতা ও অনটনের মাঝেও অদম্য মনোভাব কেবল আর্থিক সংকটই নয়, রোশিবিনার যাত্রাপথে সামাজিক পরিস্থিতিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসের সময় মণিপুরে রাজনৈতিক অশান্তি ও হিংসার কারণে দীর্ঘদিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। দাঙ্গার কারণে রোশিবিনার বাবা মাঠে গিয়ে কাজ পর্যন্ত করতে পারছিলেন না, যার ফলে সংসারের আর্থিক অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হতে থাকে। তবে হাজারো দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও পরিবারের সমর্থনেই নিজের মনোবলেই শক্ত রেখে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন রোশিবিনা।
এশিয়ান গেমসে পদকের অনন্য হ্যাটট্রিক বাবার আত্মত্যাগ আর নিজের কঠোর অনুশীলনের মর্যাদা দিতে ভুল করেননি রোশিবিনা। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে তিনি তৈরি করেছেন এক নতুন ইতিহাস:
- ২০১৮ জাকার্তা এশিয়ান গেমস: ব্রোঞ্জ পদক দিয়ে আন্তর্জাতিক সাফল্যের সূচনা।
- ২০২২ হাংঝৌ এশিয়ান গেমস: পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটিয়ে জেতেন রুপোর পদক।
- ২০২৬ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস: ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের ঝুলিতে পুরলেন আরও একটি পদক।
পরপর তিনটি এশিয়ান গেমসে তিনটি পদক জয় করে রোশিবিনা প্রমাণ করেছেন যে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সামনে কোনো বাধাই স্থায়ী হয় না। মণিপুরের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ের এই সাফল্য আজ দেশের কোটি কোটি উদীয়মান ক্রীড়াবিদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।