পুজোর মুখে চরম আর্থিক সংকটে কালীঘাট! হাইকোর্টে বড় ধাক্কা তৃণমূলের

বার্তা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজোর আবহেই গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। কর্মীদের বকেয়া বেতন মেটানো থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়ের ভাড়া প্রদান—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। আদালতের নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার উৎসবের মরসুমে তহবিল মুক্ত করতে রাজি না হওয়া এবং কলকাতা হাইকোর্টে জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ হয়ে যাওয়ায় চূড়ান্ত বিপাকে পড়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

টাকা আটকে থাকার নেপথ্য কারণ পুলিশি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়। গত ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই বিষয়টির পর্যালোচনায় স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেন। আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক খরচ ও কর্মীদের বেতন স্পেশাল অফিসারের অনুমোদনেই ছাড়া হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার স্থগিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে স্পেশাল অফিসার লিখিতভাবে জানতে চান—নির্বাচন কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞা কি কেবল উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, নাকি অনির্দিষ্টকালের জন্য? তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না পাওয়ায় পুজোর আগে তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দে সম্মতি দেননি তিনি।

হাইকোর্টেও ধাক্কা জরুরি ভিত্তিতে তহবিল ব্যবহারের অনুমতি এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট নেতৃত্ব। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেই আর্জি খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুজোর ছুটির পর আদালত স্বাভাবিক নিয়মে খুললেই কেবল এই মামলার শুনানি সম্ভব।

যদিও এর আগের শুনানিতে আদালত উল্লেখ করেছিল যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশটি ছিল একটি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ, তবুও আইনি জটিলতায় টাকা না মেলায় আপাতত খালি হাতেই পুজোর দিনগুলো পার করতে হচ্ছে দলকে। কর্মীদের বকেয়া মেটানো ছাড়াও উৎসবের মরসুমে দলীয় কার্যক্রম সচল রাখা এখন নেতৃত্বদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। ছুটির পর পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী পথ দেখায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *