অবশেষে কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ্য ভবনের, বাতিল অভীক দে-র সার্ভিস কোটা!
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অভীক দে-কে ঘিরে সার্ভিস কোটা বিতর্কে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। ২০২৪ সালে এসএসকেএম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে স্নাতকোত্তর (পিজি) কোর্সে সার্ভিস কোটায় তাঁর ভর্তি নিয়ে ওঠা গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলতেই সেই কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই বছরের সার্জারি বিভাগের স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের মেধা তালিকা সংশোধন করে অভীকের নাম অবিলম্বে বাদ দিতে হবে।
কী ছিল মূল অভিযোগ? সার্ভিস কোটায় অভীকের ভর্তি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত আরজি কর আন্দোলনের আগেই। প্রশ্ন উঠেছিল, গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ করার আইনি শর্ত পূরণ না করেই কীভাবে তিনি এসএসকেএমের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেলেন? তদন্তে দেখা যায়, বর্ধমানের অনাময় হাসপাতালে তাঁর কর্মরত থাকার দাবি সংক্রান্ত জমা দেওয়া নথি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নবিদ্ধ।
পরপর দুটি তদন্ত কমিটি ও স্বাস্থ্য ভবনের পদক্ষেপ: অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রথমে এনআরএসের তৎকালীন অধ্যক্ষ পীতবরণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি স্পষ্ট জানায়, সার্ভিস কোটা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের ভিত্তি রয়েছে। পরবর্তীতে গত অগস্টে গঠিত দ্বিতীয় তদন্ত কমিটি ২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা (DME) ইন্দ্রজিৎ সাহার কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে থাকা সত্ত্বেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় চিকিৎসক মহল স্বাস্থ্য ভবনের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিল। গত ১ অক্টোবর অভীকের ‘ট্রেনি রিজার্ভ’ বাতিল সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশ পেলেও সেখানে কোটার অনিয়ম নিয়ে কোনো উল্লেখ ছিল না, যা বিতর্ক আরও বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের লাগাতার দাবি ও দ্বিতীয় কমিটির সুপারিশকেই ভিত্তি করে অভীকের বিরুদ্ধে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
কাঠগড়ায় আর কারা? স্বাস্থ্য ভবনের এই পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরলেও নতুন করে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—
- অভীকের ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য ভবনের কারা যুক্ত ছিলেন?
- কোন প্রভাবশালী আধিকারিকদের সুপারিশে এই অনিয়মে অনুমোদন মিলেছিল?
- তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই অনিয়মে সহায়তাকারী মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।