ধর্ম নয় মানবিকতাই পরিচয়! মালদায় ত্রাণ ও ঘর তৈরির বিশাল ঘোষণা
বার্তা ডেস্কঃ
মালদার বন্যা ও গঙ্গা ভাঙন কবলিত মানিকচক এবং রতুয়া এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি কর্মচারীদের ভাতা সংক্রান্ত একাধিক মেগা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী মানিকচকের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে জানানো হয়েছে যে, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যেই ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনে আর্থিক সাহায্যের হার:
- সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি: ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
- আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি: ৯০ হাজার টাকা।
- জরুরি ত্রাণ: অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ৫,০০০ পরিবারকে নতুন জামাকাপড়, মশারি ও ত্রিপল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্যবিমা ও সরকারি কর্মচারীদের ২০% ডিএ স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে বিশেষ ‘স্বাস্থ্যবিমা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এর পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মেটাতে ১৬ অক্টোবরের আগেই ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) সহ বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ও ১২৫ দিনের কাজ মালদার আম চাষকে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গতি আনতে চালু করা হচ্ছে ‘১২৫ দিনের কাজের’ বিশেষ সুযোগ। আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েত থেকে জব কার্ড হোল্ডাররা মোট ৩৪,৫০০ টাকা করে সরাসরি নিজ অ্যাকাউন্টে পাবেন। এছাড়া:
- বিধবা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হচ্ছে।
- ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পের সাধারণ বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি রোধ ও সিএএ বাস্তবায়ন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, পূর্বে আবাসন কিংবা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে হওয়া আর্থিক দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের টাকা চুরি করা ব্যক্তিদের অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং জেলে যেতে হবে। “ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে প্রতিটি প্রকৃত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে” বলে স্পষ্ট করা হয়।
একই সঙ্গে, জেলাশাসকদের (DM) মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে সিএএ (CAA) শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।