মহালয়ায় তর্পণের মোক্ষম সময় কোনটি? জেনে নিন শাস্ত্রীয় পুণ্যলগ্নের সঠিক সময়সূচি!
বার্তা ডেস্কঃ
শরতের পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর বাতাসে আগমনীর সুবাস—সব মিলিয়ে আর হাতে গোনা কটি দিনের অপেক্ষা। আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে পবিত্র মহালয়া। ভোরবেলায় রেডিওর নস্টালজিয়া আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চেনা মায়াবী কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার আমেজে মাততে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা বাঙালি জাতি।
একই সঙ্গে পিতৃপক্ষের শেষ লগ্নে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ নিবেদন করার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত। তবে শাস্ত্র ও জ্যোতিষবিদদের মতে, নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট শুভ লগ্ন দেখেই তর্পণ করা শ্রেয়; তবেই মেলে তার পূর্ণ ফল।
অমাবস্যা তিথি ও তর্পণের পুণ্যলঘ্ন: পঞ্জিকা অনুসারে, অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে এবং তা বলবৎ থাকবে ১০ অক্টোবর রাত ৯টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত।
যদিও মহালয়ার দিন ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটগুলিতে তর্পণার্থীদের ভিড় জমে, তবে পঞ্জিকাসম্মত বিশেষ মুহূর্তটি খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগামী ১০ অক্টোবর পিতৃপক্ষের অবসান ও মাতৃপক্ষের সূচনার এই সংযোগস্থলে তর্পণের জন্য সবচেয়ে পুণ্যদায়ক সময় হলো সকাল ১১টা ২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্রমতে এই নির্দিষ্ট সময়সীমায় তর্পণ নিবেদন করলেই পিতৃপুরুষেরা প্রকৃত তৃপ্তি লাভ করেন।
তর্পণের মহিমা ও সনাতন প্রথা: সনাতন সংস্কৃতিতে ‘তর্পণ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো তৃপ্তি সাধন করা। মূলত জল ও তিল নিবেদনের মাধ্যমে প্রয়াত পিতৃপুরুষদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তাঁরা তুষ্ট হন এবং বংশধরদের সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও দীর্ঘায়ুর আশীর্বাদ দেন।
শাস্ত্রীয় প্রথা মেনে এই পবিত্র দিনে পরিবারে সাত্ত্বিক আহার ও সংযম বজায় রাখার বিধান রয়েছে। সব মিলিয়ে, তর্পণ ও আরাধনার এই পবিত্র মুহূর্তে ভর করেই বাংলার প্রতিটি ঘরে অফিশিয়ালি বেজে উঠবে দুর্গাপূজার ঢাক ও সানাই!