রেজিনগরে ইভিএম কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ, ভোটের ফলাফলে কি কারসাজি!
বার্তা ডেস্কঃ
রেজিনগর উপনির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হতেই রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তাপ। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখরভ সরকার। আর এই ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই গণনায় কারচুপি ও ভোট রিগিংয়ের মারাত্মক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কংগ্রেস সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
“কাউন্টিং সেট করা আছে”: বিরোধীদের বিস্ফোরক দাবি
ফলাফলের ট্রেন্ড দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেজিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহি কাফি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, “কাউন্টিং পুরো সেট করা আছে। প্রতিটি ইভিএম খুললেই দেখা যাচ্ছে অদ্ভুত হিসেব—কংগ্রেস ৪০ হলে ওরা ৪০০, ৫০ হলে ৫০০, ৫২ হলে ৫২০! এত তাড়াতাড়ি সব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না ঠিকই, তবে ভোট যে পুরোপুরি রিগিং করা হয়েছে তা পরিষ্কার।” একইসঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ওসি-এসপিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে ‘পূর্বপরিকল্পিত সেটিং’ বলে অভিযোগ করেন।
কংগ্রেস প্রার্থীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের (ডিটিএমসি) প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। তিনি বলেন, “আজ আর নতুন করে অভিযোগ করার কিছু নেই। সবকিছু মানুষের সামনে স্পষ্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও তা পরিষ্কার।”
মাত্র ৫ মাসে উল্টে গেল সমীকরণ?
প্রসঙ্গত, রেজিনগর কেন্দ্রটিতে প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের বাস। মাত্র পাঁচ মাস আগের বিধানসভা নির্বাচনেও এখান থেকে জয়ী হয়েছিলেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু উপনির্বাচনে সেই সমীকরণ এক লহমায় বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
‘উন্নয়নের স্বার্থেই ভোট দিয়েছেন সংখ্যালঘুরা’: বিজেপি প্রার্থী
বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ এক বাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন এগিয়ে থাকা বিজেপি প্রার্থী শাখরভ সরকার। পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কার্ড খেলে বাংলার মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না। মানুষ এসব শুনে ক্লান্ত। বাংলায় এখন একটাই দাবি—উন্নয়ন, রেজিনগরে কলেজ এবং শিল্প। সংখ্যালঘু ভোটাররা অত্যন্ত বুদ্ধিমান।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কংগ্রেসের সময়ে তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন, বাম জমানায় বামেদের সমর্থন করেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে তৃণমূলকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছেন। এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে উন্নয়নের স্বার্থেই রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”
সব মিলিয়ে, রেজিনগরে বিজেপির এই অগ্রগমন যেমন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনই ইভিএম কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন ঘিরে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।