মহালয়া ও তর্পণের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি? জেনে নিন ১০ অক্টোবরের নির্ঘণ্ট ও শুভ মুহূর্ত!
বার্তা ডেস্কঃ
পিতৃপক্ষের সমাপ্তি এবং দেবীপক্ষের শুভারম্ভের এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র হলো মহালয়া। সনাতন ধর্মে এই বিশেষ দিনটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর, শনিবার পালিত হতে চলেছে এই পবিত্র মহালয়া। একই দিনে ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’ পড়ায় এই তিথির মাহাত্ম্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দিনে একদিকে যেমন তর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়, অন্যদিকে বাংলা মেতে ওঠে মা দুর্গার আগমনী বার্তায়।
মহালয়ার অমাবস্যা তিথি ও সঠিক সময়
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে এবং তা শেষ হবে ১০ অক্টোবর রাত ৯টা ১৯ মিনিটে। যেহেতু অমাবস্যা তিথির মূল অংশটি ১০ অক্টোবর পালিত হচ্ছে, তাই তর্পণ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের প্রধান দিন হিসেবে ওই দিনটিকেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
শহরভিত্তিক তর্পণের শুভ সময়সূচি
স্থানীয় পঞ্জিকা ও সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়ের হিসাব অনুযায়ী শহরভেদে তর্পণ ও পুজোর সময়ে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। প্রধান শহরগুলির কু্তুপ মুহূর্ত (Kutup Muhurat), রোহিণ মুহূর্ত (Rohina Muhurat) ও অপরাহ্ন কাল (Aparahna Kaal)-এর শুভ সময়সীমা নিচে দেওয়া হলো:
- কলকাতা: কু্তুপ মুহূর্ত (সকাল ১১:০১ – ১১:৪৭), রোহিণ মুহূর্ত (সকাল ১১:৪৭ – দুপুর ১২: ৩৩), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১২:৩৩ – দুপুর ২:৫৩)
- নতুন দিল্লি: কু্তুপ মুহূর্ত (সকাল ১১:৪৫ – দুপুর ১২:৩১), রোহিণ মুহূর্ত (দুপুর ১২:৩১ – দুপুর ১:১৮), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১:১৮ – বিকেল ৩:৩৭)
- মুম্বই: কু্তুপ মুহূর্ত (দুপুর ১২:০৩ – ১২:৫০), রোহিণ মুহূর্ত (দুপুর ১২:৫০ – দুপুর ১:৩৭), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১:৩৭ – বিকেল ৩:৫৯)
- বেঙ্গালুরু: কু্তুপ মুহূর্ত (সকাল ১১:৪২ – দুপুর ১২:৩০), রোহিণ মুহূর্ত (দুপুর ১২:৩০ – দুপুর ১:১৭), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১:১৭ – বিকেল ৩:৪০)
- হায়দরাবাদ: কু্তুপ মুহূর্ত (সকাল ১১:৩৬ – দুপুর ১২:২৩), রোহিণ মুহূর্ত (দুপুর ১২:২৩ – দুপুর ১:১০), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১:১০ – বিকেল ৩:৩২)
- চেন্নাই: কু্তুপ মুহূর্ত (সকাল ১১:৩২ – দুপুর ১২:১৯), রোহিণ মুহূর্ত (দুপুর ১২:১৯ – দুপুর ১:০৬), অপরাহ্ন কাল (দুপুর ১:০৬ – বিকেল ৩:২৯)
(অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারীদের স্থানীয় পঞ্জিকা মেনে নিয়ম পালন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)
তর্পণ ও প্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠান
মহালয়ার দিন ভোরে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে তর্পণ করার বিধান রয়েছে। কুশ ঘাস, কালো তিল, যব, আতপ চাল এবং গঙ্গাজল ব্যবহার করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে অঞ্জলি প্রদান করা হয়। তর্পণের সময় ‘ॐ पितृभ्यो नमः’ (ওঁ পিতৃভ্যো নমঃ) মন্ত্র জপের পাশাপাশি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বা বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য হয়। এছাড়া যাঁদের পূর্বপুরুষদের মৃত্যুর সঠিক তিথি জানা নেই, তাঁদের জন্য এই সর্বপিতৃ অমাবস্যার দিনটি তর্পণ ও শ্রাদ্ধের সেরা সুযোগ।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
বাঙালির ঘরে ঘরে মহালয়ার ভোর মানেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ও চণ্ডীপাঠের আগমনী সুর। পৌরাণিক আখ্যানের মাহাত্ম্য এবং মর্ত্যে মহাশক্তির আগমনের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মহালয়া বাঙালি মননে জাগিয়ে তোলে এক চিরন্তন নস্ট্যালজিয়া। পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেবী দুর্গার আরাধনার এই মহামুহূর্ত সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও আনন্দ বয়ে আনুক।