‘আইন ভাঙার ইতিহাস আছে!’ অভিজিৎ দীপককে আটকের আসল কারণ জানাল পুলিশ
বার্তা ডেস্কঃ
রাজধানীতে সাম্প্রতিক অশান্তি এবং ধরপাকড় নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। জনপথে ধর্নার অনুমতি না দেওয়া এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতা অভিজিৎ দীপক ও তাঁর সঙ্গীদের আটকের নেপথ্যের কারণ স্পষ্ট করলেন ডিসিপি নেহা যাদব।
গত ১০ অক্টোবর জনপথে একটি ধর্না কর্মসূচির ঠিক আগেই পুলিশ সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক এবং তাঁর দুই সঙ্গীকে আটক করে। পুলিশের দাবি, এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অতীতে নিয়ম ভাঙার রেকর্ড থাকার কারণেই প্রশাসন এই অনুমতি দেয়নি।
কেন এই কড়াকড়ি? জানাল পুলিশ ডিসিপি নেহা যাদব জানান, এই গোষ্ঠী এর আগে যেসব বিক্ষোভ করেছিল, সেখানে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছিল। দেদার পাথর ছোড়া, আগুন লাগানো এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি তারা আইনি নির্দেশিকাও অমান্য করেছিল। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষার্থে তাই দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৩৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যার ফলে বিনা অনুমতিতে জমায়েত বা বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মানবিক দিক দেখাল পুলিশ অভিজিৎ দীপককে আটকের পরই তাঁর পরিবারে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তাঁর ৮৫ বছর বয়সী ঠাকুমা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপক প্রয়াত হন। ডিসিপি জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ আধিকারিকরা অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে অভিজিতের কাছে যান এবং তাঁকে এই দুঃসংবাদ দেন। ফ্লাইট বুকিং, ফোন করা বা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার মতো সবরকম সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন।
দমে যাননি সিজেপি নেতা, আন্দোলনের হুংকার পরিবারে শোকের আবহ থাকলেও সিজেপি নেতার গলায় লড়াইয়ের সুর স্পষ্ট। ব্যক্তিগত শোক বা রাজনৈতিক চাপ—কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। রবিবার এক্স (X) হ্যান্ডেলে এক পোস্টে অভিজিৎ দীপক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমরা এমন কোনও বন্ডে সই করিনি যেখানে লেখা আছে যে আমরা আর বিক্ষোভ করব না। আমরা আবার রাস্তায় নামব।”
এদিকে, দলের শীর্ষ নেতারা ছাড়া পাওয়ার পর দিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে সিজেপি। সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সিজেপি কর্মী অভিজিৎ দীপক এবং আশুতোষ রাঙ্কা এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি তথা জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।