চেন্নাইতে প্রশংসার জোয়ার, দিল্লিতে ধরপাকড়, তরুণদের নিয়ে এ কী দ্বিমুখী আচরণ!

বার্তা ডেস্কঃ

তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি (Gen Z)-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চেন্নাইতে এক স্কুলের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের যুবসমাজকে বড় ক্যানভাসে স্বপ্ন দেখার এবং নির্ভীকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী তরুণদের নতুন আইডিয়া ও বিশ্বের সংকট সমাধানের চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করছেন, ঠিক অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন ও অন্যান্য ইস্যুতে জেন-জির আন্দোলন এবং পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চড়ছে পারদ।

রবিবার চেন্নাইয়ের নন্দমবক্কমে চেন্নাই ট্রেড সেন্টারে ‘জয়গোপাল গড়োদিয়া হিন্দু বিদ্যালয়’-এর সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আজ গোটা বিশ্ব সমাধানের পথ খুঁজছে, আর সেই সমাধান দেওয়ার ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে। আমি চাই প্রতিটি তরুণ যেন নিজের ভবিষ্যৎকে একটি বড় ক্যানভাসে দেখে। কারণ এটি আপনাদের সময়, আপনাদের সুযোগ।” বারাণসীর সাংসদ হিসেবে কবি ভারতিয়ারের লেখা উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ভয়হীনভাবে বাঁচার মন্ত্রেই আমাদের উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। আমি আপনাদের সকলকে বলব, ভয়ডরহীনভাবে বাঁচার সুযোগ দিন নিজেদের। নিজেদের আইডিয়া নিয়ে কাজ করুন, বড় স্বপ্ন দেখুন, আলাদাভাবে চিন্তা করুন এবং নির্ভীক থাকুন।”

বিশ্লেষকদের মতে, চেন্নাইয়ের এই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর জেন-জি প্রীতি নিছক কোনও সাধারণ বার্তা নয়, বরং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের মন জয়ের একটি সুচিন্তিত কৌশল। বর্তমানে বেকারত্ব এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে এর আগে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য ইস্যুতে জেন-জির প্রতিবাদের জেরে রাজনৈতিক দিক থেকে পরিস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ঠিক যখন চেন্নাইতে বসে তরুণদের উৎসাহ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ঠিক সেই সময় দিল্লির রাজপথে দেখা গেল ভিন্ন ছবি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তত্ত্বাবধানে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে দেশের জেন-জি ও পড়ুয়ারা। শনিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই মুম্বই থেকে দিল্লিগামী বিমান নামতেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে আটক করা হয়, বন্ধ রাখা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন পরিষেবা।

যদিও রবিবারই এই পুলিশি কড়াকড়ি ও যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, দিল্লির সমস্ত ব্যারিকেড অবিলম্বে সরাতে হবে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সাপেক্ষে সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ধারা ১৬৩-র অপব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। একদিকে জেন-জির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নরম মনোভাব এবং অন্যদিকে দেশের রাজধানীতে জেন-জির প্রতিবাদের ওপর প্রশাসনিক কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *