শুভেন্দুকে পাত্তাই দিচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী, অগ্নিমিত্রার কাজে মুগ্ধ মমতা!
বার্তা ডেস্কঃ
দফতরে বসে ফাইলবন্দি কাজের দিন এখন অতীত। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যেন প্রতিদিন সকাল থেকেই নেমে পড়েন রাজপথে। তাঁর এই ‘অতি সক্রিয়তা’ ও কাজের ধরণ নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা কটাক্ষ বা ট্রোলিংয়ের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তবে সব সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে এবার মন্ত্রীর কাজের দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে তিনি প্রশংসা করলেন দলের দুই বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারীরও।
সোমবার কুঁদঘাটে একটি জলাশয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যেমন দফতরে বসে কাজ করেন, তেমনই সবসময় রাস্তাতেও থাকেন। আর সেই কারণেই কিছু লোকের গাত্রদাহ হচ্ছে।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ট্রোলিংয়ের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, কিছু মানুষ হাতে মোবাইল নিয়ে কেবল অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সমস্ত নেতিবাচক সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে অগ্নিমিত্রাকে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্পষ্ট বলেছি, ওদের ইগনোর করে এগিয়ে যান। রাজ্য সরকার সবসময় আপনাদের সঙ্গে আছে।”
এদিনের মঞ্চ থেকে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের প্রশংসাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। তিনি বলেন, যাদবপুরকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রবাদী ভাবধারার দিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন শর্বরী। শুধু তাই নয়, শর্বরীর কাজের তেজ দেখে আজকের দিনে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ ভয় পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাশাপাশি, বিশিষ্ট অভিনেত্রী তথা বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামবাংলার মানুষ যাত্রা মানেই পাপিয়া অধিকারীকে চেনেন। তাঁকে এলাকার বিধায়ক হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক হেভিওয়েট মন্ত্রীকেও এলাকাবাসী অতীতে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলা মন্ত্রীদের প্রশংসার পাশাপাশি বিরোধীদেরও তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, জনতা যাঁদের ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে, আসন্ন কলকাতা পুরনির্বাচনেও তাঁদের ভাগ্যে একই ফল অপেক্ষা করছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একেবারে মাঠে নেমে কাজ করছেন অগ্নিমিত্রা পাল। বেআইনি পার্কিং থেকে শুরু করে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা— প্রতি মুহূর্তের নজরদারিতে তিনি নজির সৃষ্টি করেছেন। আর এবার তাঁর এই জনমুখী কর্মকাণ্ডকেই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।