আতশবাজি ও ধর্ম: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কি নতুন বিতর্ক শুরু হলো?
বার্তা ডেস্কঃ
উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশগত উদ্বেগের মধ্যে সবসময় একটি সুস্থ ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। আদালত গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা ঈশ্বর আরাধনা উৎসবের মূল অঙ্গ হতে পারে, তবে বাজি ফাটানো কখনোই ধর্মের অপরিহার্য অংশ নয়। শুনানিকালে অ্যামিকাস কিউরি ও সরকারি আইনজীবীরাও একমত হয়ে জানান, আতশবাজি পোড়ানো কোনো মৌলিক ধর্মীয় অধিকার নয় এবং বাজি ফাটানোর কারণে শিশুরা অসুস্থ হলে তা মেনে নেওয়া যায় না।
কেবলমাত্র আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাধারণ মানুষকে বাজি ফাটানো থেকে বিরত রাখা কঠিন, তাই আদালতের মতে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধই এই মারাত্মক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে। প্রধান বিচারপতি জানান, বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে পরিবেশবান্ধব উপায়ে উৎসব উদযাপনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। সরকার বা প্রশাসনকে কোনো কঠোর নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে বরং গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের মতো পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়ার জন্য জনসচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত আশা প্রকাশ করেছে যে, সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছায় সচেতন হয়ে উঠলেই বায়ুদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে সমাজ।