১৫ বছরে যা সম্ভব হয়নি, তা আমরাই করছি! খেলার মাঠ গড়লেন অগ্নিমিত্রা
বার্তা ডেস্কঃ
কলকাতা: শহরকে সুন্দর ও নতুন সাজে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই তিলোত্তমার একাধিক প্রধান সড়ক ও ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধনে নানা রঙের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে। এবার শহরের ফাঁকা জায়গা ও ব্রিজের তলাকে ঢেলে সাজানোর এক অভিনব পরিকল্পনা সামনে আনলেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির জেরে তাঁর গলায় ঝরে পড়ল গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কার সুর।
সম্প্রতি চিংড়িহাটা ব্রিজে কয়েকটি বাইক পিছলে (স্কিড) পড়ে দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই সরব বিরোধীরা। রাস্তায় রঙের প্রলেপ দেওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা— এই অভিযোগে সোচ্চার হন বিরোধী নেতারা। এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জবাব দেন মন্ত্রী।
ব্রিজের নিচে খেলাধুলার অভিনব পরিকল্পনা
শহরের অব্যবহৃত জায়গাগুলির নতুন ব্যবহারের কথা তুলে ধরে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, ব্রিজের নিচের ফাঁকা অংশগুলি দু’পাশে নেট দিয়ে ঘিরে খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে। গড়িয়াহাট ব্রিজের নিচে যেমন সফলভাবে দাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, ঠিক তেমনই অন্য ব্রিজের নিচে টেবিল টেনিস কিংবা ক্যারাম খেলার সুযোগ তৈরি করা হবে।
তিনি আরও জানান, মাঠ বা ফাঁকা জায়গা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় একদিকে যেমন পরিকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে শিশুরা খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এই সমস্যা মেটাতে কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়ির বিভিন্ন অবহেলিত মাঠ ও ব্রিজের নিচের অংশের সৌন্দর্যায়নে বড় বড় কো ম্পা নির CSR (কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি) ফান্ড ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যেই সেই সমস্ত মাঠের তালিকা চূড়ান্ত করে জমা দেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের আক্রমণের কড়া জবাব
চিংড়িহাটা কান্ড ও বিরোধীদের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান:
“বাইকের চাকা স্কিড করার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বড় বড় হাইওয়েতে যেখানে কোনো রং করা থাকে না, সেখানেও তো বড় দুর্ঘটনা ঘটে! সুতরাং, শুধুমাত্র রঙের জন্যই গাড়ি পিছলে গেছে— এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
ঘটনার পরপরই প্রশাসন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাম শাসনকে নিশানা ও প্রশাসনিক স্পষ্টীকরণ
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, বিগত ১৫ বছরের বাম শাসন বা অন্য কোনো সরকার যা করে দেখাতে পারেনি, এই সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তা-ই করছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য রক্ষা করাও প্রশাসনিক দায়িত্বের অঙ্গ।
তিনি সাফ দাবি করেন, এই সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি কিংবা কারও কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হয়নি। তবে ভালো কাজ করতে গিয়েও যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, তাতে আক্ষেপ প্রকাশ করে মন্ত্রী স্বীকার করে নেন— বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কোনো কাজ করতে গেলে কাজের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি ও ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।