পুজোর আনন্দে ওষুধ খেতে ভুলছেন? সুগার ও প্রেশার রোগীদের জন্য জরুরি টিপস!

বার্তা ডেস্কঃ

দুর্গাপুজো মানেই চার দিনের জমজমাট আনন্দ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্যান্ডেল হপিং, দেদার খাওয়া-দাওয়া আর জমজমাট আড্ডা। আর এই আনন্দের জোয়ারে অনেকেই ভুলে যান জীবনের সবচেয়ে জরুরি কাজটি— ঠিক সময়ে ওষুধ খাওয়া।

চিকিৎসকদের মতে, প্রতি বছর পুজোর রেশ কাটতেই হাসপাতালে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের সমস্যা নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর মূল কারণ একটাই— অনিয়ম।

সুগার ও প্রেশারের রোগীরা পুজোয় কী কী মেনে চলবেন?

  • ১. ওষুধের অ্যালার্ম সেট করুন: পুজোর দিনগুলোতে ফোনে ওষুধ খাওয়ার অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন। বাড়ির বাইরে বেরোলে ব্যাগে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। একটি ছোট বক্সে দিনের ওষুধগুলো ভরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। “পরে খেয়ে নেব”— এই মনোভাবই ডেকে আনে বড় বিপদ।
  • ২. খাওয়াদাওয়ায় লাগাম টানুন: পুজোয় বিরিয়ানি, ফুচকা, রোল বা মিষ্টি খাবেন না, তা তো আর হয় না! তবে পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীরা একবারে পেটপুরে না খেয়ে অল্প করে বারবার খান। অতিরিক্ত ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান। বাইরের খাবার খাওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনি সময়মতো ওষুধ খেয়েছেন কি না।
  • ৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন: সারারাত ঠাকুর দেখে পরের দিন সারাদিন ঘুম— এই অনিয়মিত রুটিনে প্রেশার মারাত্মকভাবে ওঠানামা করতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। বেশি রাত জাগলে পরের দিন অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি এড়িয়ে চলুন।
  • ৪. হাঁটার রুটিন বজায় রাখুন: পুজোয় এমনিতেই অনেক হাঁটা হয়, তবে যারা নিয়মিত সকালে হাঁটেন, তাঁরা সেই রুটিনটা বজায় রাখার চেষ্টা করুন। একেবারে শুয়ে-বসে কাটালে সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • ৫. শরীরের সংকেত বুঝুন: অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো লক্ষণগুলোকে স্রেফ ‘পুজোর ক্লান্তি’ বলে এড়িয়ে যাবেন না। সঙ্গে প্রেশার ও সুগার মাপার যন্ত্র রাখুন। একটুও অস্বস্তি বোধ হলে পরিবারের কাউকে জানান এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আনন্দ করুন মন খুলে, তবে সুস্থ থেকে। মনে রাখবেন, ওষুধ খেতে ভোলা মানে নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। আপনার পুজোর আনন্দ যেন কোনোভাবেই হাসপাতালে গিয়ে শেষ না হয়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *