উৎসবের মরশুমে মহুয়ার কৃষ্ণনগর সফরে বাধা নয়! রাজ্যকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মতো উৎসবের মরশুমে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র সফর যেন কোনোভাবেই বাধার মুখে না পড়ে, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের জন্য তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মামলাটির বিস্তারিত জবাব দিতে রাজ্য সরকার সময় নিতে পারে। তবে সেই অন্তর্বর্তী সময়ে সাংসদ যদি নিজের এলাকায় যেতে চান, তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। কী কী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তা জানাতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে শুক্রবার শীর্ষ আদালতে বক্তব্য পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, উৎসবের আবহে একজন জনপ্রতিনিধির নিজের কেন্দ্রে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে দেশের প্রায় ৮০০ জন সাংসদের নির্বাচনী এলাকা সফরের সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট ‘অভিন্ন প্রোটোকল’ চালু করার প্রস্তাব দেয় বেঞ্চ। সলিসিটর জেনারেল এই প্রস্তাবে সায় দিয়ে জানান, সারা দেশের সাংসদদের জন্যই এমন নিয়ম থাকা উচিত। অন্যদিকে, মহুয়ার পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন পাল্টা সওয়াল করে বলেন, “বাস্তবে কিন্তু এই হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে কেবল একজন সাংসদকেই।”
মহুয়া মৈত্রের আবেদনের মূল বক্তব্য:
কৃষ্ণনগরের সাংসদ শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করেছিলেন:
- প্রশাসনিক সহযোগিতা: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এলাকা সফর ও উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা সুনিশ্চিত করা হোক।
- এমপিল্যাডস (MPLADS) প্রকল্প: সাংসদ তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়নে কোনো রকম বাধা যেন না আসে।
- পক্ষপাতহীন আচরণ: রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।
এর আগের শুনানিতেও সার্কিট হাউসে থাকার জন্য তিন দিন আগে আবেদন করার বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। বর্তমান নির্দেশের পর সাংসদদের জন্য নতুন কোনো সর্বভারতীয় নির্দেশিকা জারি হয় কি না, শুক্রবারের শুনানির দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।