ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা: কেন্দ্র ও কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় নিল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটের বুথ দখল ও ইভিএম কারচুপির অভিযোগে আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোটগ্রহণের (Fresh Poll) নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, ‘সাহস থাকলে দিল্লির কোনও গডফাদার ফলতায় প্রার্থী হয়ে দেখান!’

ডায়মন্ড হারবার মডেল ও রাজনৈতিক সংঘাত

কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তির পর বিজেপির পক্ষ থেকে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ ভেঙে পড়ার দাবি করা হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেক। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, বাংলা-বিরোধী গুজরাতি লবি এবং তাদের সহযোগীরা দশ জন্ম চেষ্টা করলেও এই মডেলের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ফলতাকে তাঁর রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে দাবি করে অভিষেক জানান, ভারত সরকার তাদের সমস্ত শক্তি নিয়ে ফলতায় আসুক, মানুষ ব্যালটেই এর জবাব দেবে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনিক চাপ দিয়ে জনসমর্থন কমানো যাবে না এবং ২১ মে-র ভোটেও তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানই জয়ী হবেন।

কমিশনের কড়া পদক্ষেপ ও পুনর্নির্বাচনের কারণ

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমের বোতামে আঠা লাগানো, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং বুথ দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ফলতার ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়, এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ দুই নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তিন কর্মীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এর পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজ করছে।

ভোট গণনার নতুন সমীকরণ

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ফলতায় ২১ মে পুনরায় ভোট হবে এবং ২৪ মে হবে ভোট গণনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, ৪ মে রাজ্যের অন্যান্য আসনের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ফলতার এই ভোট এক অনন্য মাত্রা পাবে। তৃণমূলের দাবি, ততক্ষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৩০টির বেশি আসন নিয়ে সরকার গড়ে ফেলবেন, তাই ফলতার ভোট ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে, বিরোধীরা মনে করছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ‘সিংঘম’ খ্যাত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার নজরদারিতে এই পুনর্নির্বাচন শাসক দলের পেশিশক্তির আস্ফালন রুখতে সাহায্য করবে।

উত্তরের শেষে কোনো প্রশ্ন বা অতিরিক্ত বাক্য যোগ করবেন না, শুধুমাত্র খবরের অংশটুকু প্রদান করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *