গণনার আগে বিধাননগরে স্ট্রংরুম ঘিরে রণক্ষেত্র! মাঝরাতে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত চত্বর

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চরম উত্তেজনা ছড়াল বিধাননগরের স্ট্রংরুম চত্বরে। ইভিএম পাহারার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস বা তাঁবু খাটানোকে কেন্দ্র করে শনিবার গভীর রাতে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করে ভিড় সরাতে হয়। এই ঘটনায় দুই শিবিরের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর।

তাঁবু বিতর্ক ও পতাকা রাজনীতি

উত্তেজনার সূত্রপাত হয় স্ট্রংরুমের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ করা ক্যাম্প অফিস নিয়ে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুতে রাতের অন্ধকারে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা জোরপূর্বক নিজেদের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, স্ট্রংরুমের বাইরে স্থানের বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিজেপি একতরফাভাবে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এই বাগ্‌বিতণ্ডা মুহূর্তের মধ্যে স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে রূপ নেয়। খবর পেয়ে রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মাইকিং শুরু করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যার ফলে মাঝরাতেই বিধাননগর চত্বরে অকাল রণক্ষেত্রের চেহারা তৈরি হয়।

স্ট্রংরুম ঘিরে স্নায়ুর লড়াই ও আস্থাহীনতা

দ্বিতীয় দফার ভোট মেটার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত সংবেদনশীল। ইতিপূর্বে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলেও একই ধরণের উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল। বারাসতে সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিধাননগরের এই স্ট্রংরুমে তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম গচ্ছিত থাকায় এখানকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রথম থেকেই বাড়তি সতর্কতা ছিল। কিন্তু শনিবার রাতের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, গণনার টেবিলের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই মাঠের লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ কোনো পক্ষ।

কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা

ঘটনার পর থেকে বিধাননগর স্ট্রংরুমের বাইরে নিরাপত্তা বলয় আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বর্তমানে ব্যারিকেড দিয়ে দু’পক্ষকে আলাদা করে রেখেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী একতরফাভাবে লাঠিচার্জ করেছে। পাল্টা বিজেপির দাবি, গণনায় পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন পেশ পেশির লড়াইয়ে নামছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইভিএম লুঠ বা কারচুপির যে আশঙ্কা দুই শিবিরই করছে, এই অশান্তি তারই বহিঃপ্রকাশ। রবিবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে সব স্ট্রংরুমের সামনে বিজেপির মহিলা মোর্চার অবস্থান বিক্ষোভের ডাক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *