‘শেয়ার বাজার চাঙ্গা করতেই সাজানো সমীক্ষা’, বুথফেরত ফল উড়িয়ে এজেন্টদের সতর্ক করলেন মমতা-অভিষেক

আগামীকাল ৪ মে রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ফলাফল। তার আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘একজিট পোল’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিলেন, এই সমীক্ষাগুলি বাস্তবসম্মত নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ।

শেয়ার বাজার চাঙ্গা করার ‘কৌশল’

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বুথফেরত সমীক্ষাগুলিতে বিজেপিকে এগিয়ে রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো শেয়ার বাজারকে কৃত্রিমভাবে চাঙ্গা রাখা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, লগ্নিকারীদের আশ্বস্ত করতে এবং বাজারের সূচক ধরে রাখতেই এই ধরণের ‘সাজানো’ তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে অভিযোগ করেন যে, মানুষের রায়কে প্রতিফলিত করার বদলে এই সমীক্ষাগুলি একটি নির্দিষ্ট আর্থিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পুরনো অভিজ্ঞতার তুলনা: ২০২১ ও ২০২৪

বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মনে করিয়ে দেন যে, এটি কোনও নতুন ঘটনা নয়।

  • ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন: সেবারও বহু সমীক্ষায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তৃণমূল কংগ্রেস নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়।
  • ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন: লোকসভা ভোটের ক্ষেত্রেও বুথফেরত সমীক্ষার দাবি এবং চূড়ান্ত ফলাফলের মধ্যে বড়সড় ফারাক ছিল বলে দাবি করেন নেত্রী।নেতৃত্বের বক্তব্য, এবারও সেই একই ‘চিত্রনাট্য’ অনুসরণ করা হচ্ছে কর্মীদের মনোবল ভাঙার জন্য।

এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশিকা

সমীক্ষার ফল দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে গণনাকেন্দ্রে পাহারার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা-অভিষেক। এজেন্টদের উদ্দেশে তাঁদের বার্তা:

  • গণনার প্রতিটি রাউন্ডের হিসেব মিলিয়ে দেখতে হবে।
  • ফলাফল যাই হোক, শেষ না হওয়া পর্যন্ত টেবিল ছাড়া যাবে না।
  • বিজেপি জয়ের উল্লাস দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, সেই প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না।

ম্যাজিক ফিগারের লড়াই

তৃণমূল শিবির আত্মবিশ্বাসী যে, জনগণের প্রকৃত রায় ইভিএম খুললেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। বুথফেরত সমীক্ষা কেবল ‘ভ্রান্তি’ ছড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। ৪ মে-র মহাযুদ্ধে তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *